৮,৬৯০ কিমি গতিতে সংঘর্ষ! চাঁদের মাটিতে বিশালাকার গর্ত আর রঙিন গ্যাসের খেলা

ঘণ্টায় ৮,৬৯০ কিলোমিটার গতিতে চাঁদের বুকে সোজা গিয়ে আছড়ে পড়ল ইলন মাস্কের সংস্থা ‘স্পেসএক্স’-এর (SpaceX Falcon 9) ফ্যালকন ৯ রকেটের একটি বাতিল অংশ। পাঁচতলা বাড়ির সমান উঁচু এবং প্রায় চার টন ওজনের এই বিশালাকার আবর্জনাটির প্রচণ্ড ধাক্কায় চাঁদে এক বিশাল ধুলোর মেঘ সৃষ্টি হয়েছে। চিলিতে অবস্থিত ইউরোপিয়ান সাদার্ন অবজারভেটরির (ESO) ভেরি লার্জ টেলিস্কোপে সেই দৃশ্য ধরা পড়ে এবং মেঘের মধ্যে সোডিয়াম ও লিথিয়াম গ্যাসের রঙিন বর্ণালি (Spectral Line) দেখা যায়।
বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই সংঘর্ষের ফলে চাঁদের ‘টারমিনেটর লাইন’ বা আলো-আঁধারি সীমান্তে অন্তত ২০ মিটার চওড়া এবং ৫ মিটার গভীর একটি বিশাল গর্ত বা ক্রেটার তৈরি হয়েছে। বর্ণালিতে পাওয়া সোডিয়াম গ্যাসটি চাঁদের মাটি থেকে এবং লিথিয়াম গ্যাসটি সম্ভবত রকেটের ধ্বংসাবশেষ থেকেই ছড়িয়েছে বলে মনে করছেন বস্টন ইউনিভার্সিটির গবেষকরা।
মহাকাশে এ ধরনের কৃত্রিম আবর্জনার (Space Debris) আছড়ে পড়া নতুন নয়, তবে এবারের ঘটনাটি বিজ্ঞানীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ রকেটের আকার, গতি এবং ধাক্কা লাগার স্থানটি আগে থেকেই গবেষকদের জানা ছিল। একে একপ্রকার ‘নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষা’ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। লস অ্যালামস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির বিজ্ঞানী বেঞ্জামিন ফার্নান্দোর মতে, এই ঘটনা চাঁদের ভূমিকম্প বা সিসমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং কৃত্রিম আবর্জনা থেকে তৈরি হওয়া ঝুঁকির বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা দেবে।
ভবিষ্যতে নাসার (NASA) উদ্যোগে চাঁদে মানুষের স্থায়ী বসতি গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তাই মহাকাশ-বর্জ্যের প্রভাব বোঝা অত্যন্ত জরুরি। দক্ষিণ কোরিয়ার ‘দানুরি’ এবং নাসার ‘লুনার রিকনসাঁস অরবিটার’-এর পাঠানো ছবি থেকে ভবিষ্যতে এই বিষয়ে আরও তথ্য মিলবে বলে আশা করছেন বিজ্ঞানীরা। চাঁদের ভেতর থেকে ছিটকে আসা মাটি ও পাথর বিশ্লেষণ করে হয়তো জানা যেতে পারে সাড়ে চারশো কোটি বছর আগে পৃথিবী ও চাঁদের সৃষ্টি রহস্যের নানা অজানা তথ্য।