জাল নথিতে ডাক্তার-অধ্যাপক! একই পরিবারের ৮ জনের বড় পর্দাফাঁস, বাতিল ST সার্টিফিকেট!

জাল নথিতে ডাক্তার-অধ্যাপক! একই পরিবারের ৮ জনের বড় পর্দাফাঁস, বাতিল ST সার্টিফিকেট!

ভুয়ো তথ্য পেশ এবং আসল পরিচয় গোপন করে তপশিলি উপজাতি (ST) শংসাপত্র হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ফরাক্কার একটি পরিবারের আট ভাই-বোনের এসটি সার্টিফিকেট বাতিল করল জঙ্গিপুর মহকুমা প্রশাসন।

অভিযুক্ত পরিবারের সদস্যেরা প্রকৃতপক্ষে ‘শের্সা বেদিয়া’ (OBC) সম্প্রদায়ভুক্ত। অথচ তথ্য জালিয়াতি করে নিজেদের ‘বেদিয়া’ (ST) হিসেবে দাবি করেছিলেন। বাতিল হওয়া শংসাপত্রধারীদের মধ্যে রয়েছেন:

  • কলকাতার বঙ্গবাসী কলেজের সহকারী শিক্ষিকা উম্মে কুলসুম
  • বীরভূমের মুরারই কলেজের একজন অধ্যাপক
  • কলকাতার একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যাপক
  • দুইজন এমবিবিএস (MBBS) চিকিৎসক সহ মোট আটজন ভাই-বোন।

ঘটনার পেছনের ইতিহাস:

ফরাক্কার তিলডাঙা গ্রামের বাসিন্দা তথা ঝাড়খণ্ডের সরকারি মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আইনুল হকের তিন ছেলে ও পাঁচ মেয়ে ২০০৫ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে এই সার্টিফিকেটগুলো সংগ্রহ করেছিলেন।

অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দফতরে লিখিত অভিযোগ জমা পড়ার পর জঙ্গিপুরের মহকুমাশাসক (SDO) সুধীরকুমার রেড্ডি অভিযুক্তদের শুনানির জন্য ডাকেন। শুনানিতে উপযুক্ত প্রমাণ পেশ করতে না পারায় মহকুমা প্রশাসন থেকে আটজনেরই শংসাপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়। এসডিও জানান, পরিবারের একজন প্রথমে ভুয়া শংসাপত্র পান এবং পরবর্তীতে সেটিকে ব্যবহার করে বাকিরাও জালিয়াতি করেন।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া:

ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাঞ্চল্য। অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ জানান, “শুধু সার্টিফিকেট বাতিলই নয়, এর পেছনে জড়িত প্রত্যেকের জেল হওয়া উচিত।” অন্যদিকে কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেন, “মূল অপরাধী এবং প্রশাসনিক মদতদাতাদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তি দিতে হবে।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *