ভোররাতের তাণ্ডব: মুম্বইয়ে মুষলধারে বৃষ্টিতে ভয়াবহ ধস, প্রাণ হারালেন ২; ধ্বংসস্তূপে বহু মানুষের আটকে থাকার আশঙ্কা!

ভোররাতের তাণ্ডব: মুম্বইয়ে মুষলধারে বৃষ্টিতে ভয়াবহ ধস, প্রাণ হারালেন ২; ধ্বংসস্তূপে বহু মানুষের আটকে থাকার আশঙ্কা!

টানা ভারী বর্ষণে বিপর্যস্ত ভারতের বাণিজ্যনগরী মুম্বই। বুধবার ভোরে শহরের কুরলা এলাকার চিরাগ নগরের গৌসিয়া চাউলে এক মর্মান্তিক ধসের ঘটনা ঘটে। রাত আনুমানিক ৩টে বেজে ৪৮ মিনিট নাগাদ হঠাৎই পাহাড়ের একাংশ ধসে পড়ে বেশ কয়েকটি কাঁচা ঘরের ওপর। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত অন্তত দুইজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও ৬ থেকে ৮ জন আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পুরোদমে চলছে উদ্ধারকাজ: ঘটনার খবর পেয়েই দ্রুত উদ্ধারকাজে নেমেছে বিএমসি (BMC), এনডিআরএফ (NDRF) এবং স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। ডিসিজিপি গণেশ শিন্ডে জানিয়েছেন, “ভারী বৃষ্টির কারণেই এই বিপর্যয় ঘটেছে। ঘাটকোপার থানা এলাকার অশোকনগরেও একই ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দু’জনের দেহ উদ্ধার করেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে ৪ থেকে ৫ জন আটকে থাকতে পারেন, তাঁদের জীবিত উদ্ধারে অভিযান চালানো হচ্ছে।”

আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা ও প্রশাসন: এই দুর্ঘটনায় সোহেল আনসারি (১৮) এবং মহম্মদ আনসারি (১৪) নামে দুই কিশোর গুরুতর আহত হয়েছে। তাঁদের উদ্ধার করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং উদ্ধার হওয়া দেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সার্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ঘাটকোপারের ধসগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যান মুম্বইয়ের মেয়র ঋতু তাওড়ে এবং অতিরিক্ত মিউনিসিপ্যাল কমিশনার (পূর্ব শহরতলি) অবিনাশ ঢাকনে।

নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা: উচ্চপদস্থ সরকারি আধিকারিক গজানন জৈতাপকর জানিয়েছেন, এলাকাটিকে অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি জানান, “বর্ষা শুরুর আগেই এই এলাকার জরাজীর্ণ ও বিপজ্জনক বাড়িগুলিকে খালি করার নোটিস দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকার বড় সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে। কোনো ঝুঁকি না নিয়ে আশেপাশের বাসিন্দাদের দ্রুত কোনো নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হতে পারে।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *