এনআরএস নার্সের রহস্যমৃত্যু: ১০ মাসের বিবাহিত জীবন, শেষ ফোন স্বামীকে! নেপথ্যে খুন নাকি আত্মহত্যা?

বিশেষ সংবাদদাতা: ডিউটিতে থাকাকালীন নীলরতন সরকার (NRS) মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের এক নার্সের রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি—এটি আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত খুন, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় প্রশ্নচিহ্ন।
পরিচয় ও বৈবাহিক জীবন: পুলিশ সূত্রের খবর, ৩০ বছর বয়সি ওই মৃত নার্সের বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুরে। একটি বিবাহসংক্রান্ত (Matrimonial) ওয়েবসাইটের মাধ্যমে গাজিয়াবাদের এক যুবকের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পেশায় অ্যাকাউন্ট্যান্ট ওই যুবকের সঙ্গে ২০২৩ সালে আইনি বিয়ে এবং ২০২৫ সালের অক্টোবরে তাঁদের সামাজিক বিয়ে সম্পন্ন হয়েছিল। বিয়ের পর স্ত্রীকে সময় দিতে স্বামী কলকাতায় চলে আসেন এবং তাঁরা দুজন দমদমে একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। ওপর থেকে তাঁদের বিবাহিত জীবন সুখী বলেই মনে হতো; এমনকি সম্প্রতি বন্ধুদের সাথে বেনারস ঘুরেও এসেছিলেন ওই নার্স।
শেষ কথোপকথন ও রহস্যের বীজ: তদন্তে জানা গেছে, মৃত্যুর ঠিক কিছু সময় আগেও স্বামীর সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছিল তাঁর। শহরের জমা জলের পরিস্থিতি নিয়ে স্বামীর সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই আলোচনা করেন তিনি। কিন্তু এরপরেই ঘটে অঘটন। মৃতার ফোন লক খতিয়ে দেখে পুলিশ জানার চেষ্টা করছে শেষ মুহূর্তে স্বামী ছাড়া আর কার কার সঙ্গে কথা হয়েছিল তাঁর।
তদন্তে হাসপাতাল ও পুলিশ: মৃতার স্বামীর বক্তব্যে বেশ কিছু অসঙ্গতি ও খামতি মেলায় দম্পতির নিজেদের সম্পর্কের টানাপোড়েন ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে এনআরএস হাসপাতাল ও রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তর যৌথভাবে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। ফরেনসিক বিভাগের প্রধান, এমএসভিপি (MSVP) ও নার্সিং সুপারিনটেনডেন্টসহ উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের নিয়ে গঠিত এই কমিটি আগামী ৭ দিনের মধ্যে তাদের রিপোর্ট জমা দেবে।