ঝাড়ফুঁক নাকি ভয়াবহ সংক্রমণ? আদিবাসী গ্রামে ৮ শিশুর রহস্যমৃত্যুতে তোলপাড় মধ্যপ্রদেশ!

ঝাড়ফুঁক নাকি ভয়াবহ সংক্রমণ? আদিবাসী গ্রামে ৮ শিশুর রহস্যমৃত্যুতে তোলপাড় মধ্যপ্রদেশ!

মধ্যপ্রদেশ: অজানা ও রহস্যময় সংক্রমণের কবলে মধ্যপ্রদেশের বালাঘাট জেলার আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রামগুলি। জুন মাসের শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাবে ইতিমধ্যেই প্রাণ হারিয়েছে অন্তত ৮টি শিশু এবং অসুস্থ হয়ে পড়েছেন শতাধিক মানুষ। রোগীদের শরীরে ম্যালেরিয়া, টাইফয়েড, চর্মরোগ (স্ক্যাবিস) এবং চরম অপুষ্টির মতো একাধিক জটিল লক্ষণ দেখা দেওয়ায় চরম উদ্বিগ্ন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। আসল কারণ জানতে পানীয় জল ও রক্তের নমুনা পুণে এবং কলকাতার শীর্ষ গবেষণাগারে পাঠানো হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত মাচ্ছুরদা, আদোরি, বোন্দারি ও কুন্দেকাসার মতো বৈগা আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকাগুলি। পরিস্থিতি সামাল দিতে কুন্দেকাসা গ্রামের একটি স্কুলে অস্থায়ী স্বাস্থ্য শিবির খোলা হয়েছে এবং ঘরে ঘরে স্ক্রিনিং ও অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

প্রশাসন ও স্থানীয়দের পাল্টাপাল্টি যুক্তি: প্রশাসনিক আধিকারিকদের দাবি, আধুনিক চিকিৎসার বদলে ঝাড়ফুঁক বা কবিরাজি চিকিৎসার ওপর অতিরিক্ত ভরসা করার ফলেই হাসপাতালে পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে এবং প্রাণহানি ঘটছে।

অন্যদিকে, স্থানীয় সমাজকর্মীরা বলছেন—স্রেফ কুসংস্কারকে দোষ দিলে চলবে না। সঠিক যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাব এবং প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে হাসপাতাল হওয়ায় সময়মতো পৌঁছানো সম্ভব হয় না। পাশাপাশি তীব্র অপুষ্টির কারণে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও তলানিতে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বালাঘাট হাসপাতালে এ পর্যন্ত ৯৮ জন শিশুকে ভর্তি করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৫১ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। আপাতত পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, কোনো নির্দিষ্ট ভাইরাসের কারণে এই প্রাদুর্ভাব কি না তা নিশ্চিত হতে ল্যাব রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছেন চিকিৎসকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *