পুরীর হোটেল থেকে গ্রেপ্তার নির্মল ঘোষ! আরজি কর কাণ্ডে প্রমাণ লোপাটের গুরুতর অভিযোগ
August 13, 20269:05 pm

আরজি কর কাণ্ডে জলহাটির প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা নির্মল ঘোষকে ওড়িশার পুরী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর আরজি কর সংক্রান্ত মামলাগুলি নতুন করে শুরু হতেই পুলিশি অ্যাকশনে ধরা পড়লেন তিনি।
যে ৩টি মূল কারণে এই গ্রেপ্তার:
- তড়িঘড়ি দেহ সৎকার: অভিযোগ উঠেছে, পরিবারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে নির্যাতিতার দেহ সৎকারের যাবতীয় ব্যবস্থা করেছিলেন নির্মল ঘোষ। বাড়ি থেকে শ্মশান পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় তাঁর সক্রিয় ভূমিকা ছিল।
- প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা: মূল অভিযোগ হলো, নির্যাতিতার দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত যাতে না করা যায়, সে কারণেই নিজের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সৎকার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করেছিলেন তিনি।
- নিয়ম লঙ্ঘন ও নতুন FIR: বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ অনুযায়ী, জলহাটি শ্মশানে ৩ নম্বর সিরিয়াল রাতারাতি বদলে ১ নম্বর করা হয়। নির্ধারিত খরচ বা নিকটাত্মীয়ের বাধ্যতামূলক স্বাক্ষর ছাড়াই বেআইনিভাবে দাহকাজ সম্পন্ন করা হয়েছিল। নিহতের বাবার নতুন এফআইআরের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ।
যেভাবে জালে ধরা পড়লেন নির্মল
দ্বিতীয় এফআইআর দায়ের হওয়ার পরেই গা-ঢাকা দিতে ওড়িশায় পালিয়ে যান নির্মল ঘোষ। পুলিশকে বিভ্রান্ত করতে পুরনো ফোন বন্ধ রেখে নতুন ফোন ও সিম কার্ড ব্যবহার করছিলেন তিনি। তবে হাতে গোনা কয়েকজন পরিচিতের সঙ্গে যোগাযোগ রাখাটাই কাল হলো— টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে পুরীর একটি হোটেল থেকে তাঁকে পাকড়াও করে পুলিশ।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
- কুণাল ঘোষ (তৃণমূল কংগ্রেস): নির্মলের গ্রেপ্তারির টাইমিং নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “সিবিআই যখন এতদিন তদন্ত করল, তখন কেন তাঁকে ধরা হলো না? তার মানে কি সিবিআই ঠিকঠাক তদন্তই করেনি?”
- সুখেন্দু শেখর রায় (বিজেপি নেতা ও প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ): তিনি এই গ্রেপ্তারিকে স্বাগত জানিয়েছেন।