নেপালে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: জলে ভেসে গেল ব্যাংকের ভল্ট, টাকা লুঠের অভিযোগে গ্রেপ্তার ২৯!

প্রকৃতির ভয়াবহ তাণ্ডবে নেপালের ব্যাংকিং পরিকাঠামোয় অভূতপূর্ব বিপর্যয় নেমে এসেছে। ভোটেকোশি নদীর বিধ্বংসী বন্যা ও হড়পা বানের তোড়ে রাসুয়া এবং নুয়াকোট জেলার ১১টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মোট ১৭টি শাখা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত শাখাগুলোর সঙ্গে ৪৩.৫ বিলিয়ন নেপালি রুপি আমানত এবং ২৪.২ বিলিয়ন নেপালি রুপি ঋণ যুক্ত ছিল, যা এখন তীব্র অনিশ্চয়তার মুখে।
তবে এই বিশাল অংকের সব অর্থই যে সরাসরি জলে ভেসে গেছে তা নয়; এটি মূলত ওই শাখাগুলোর হিসাবের সম্মিলিত মোট পরিসংখ্যান। কিন্তু রাসুয়ার তিমুরে ও সিয়াফ্রুবেসি এলাকার মতো দুর্গম অঞ্চলে কয়েকটি ব্যাংকের আস্ত শাখা এবং সেগুলোর শক্তিশালী সিন্দুক (ভল্ট) নদীর তোড়ে ভেসে গিয়েছে। বন্যার জলে ভেসে যাওয়া সিন্দুক উদ্ধার করে নদী থেকে টাকা লুঠের চেষ্টার অভিযোগ উঠে এসেছে। এই অভিযোগে পুলিশ ইতিমধ্যেই ২৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং তাদের কাছ থেকে প্রায় ৯২ লক্ষেরও বেশি নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
আর্থিক ক্ষতির থেকেও বড় উদ্বেগ হয়ে দাঁড়িয়েছে নিখোঁজ ব্যাংক কর্মীদের জীবন। এই ভয়াবহ বন্যায় এখনও পর্যন্ত ৩৫ জন কর্মীর কোনো খোঁজ মেলেনি, যার মধ্যে ২৭ জন বাণিজ্যিক ব্যাংক, ৬ জন মাইক্রোফাইন্যান্স এবং ২ জন ট্যুরিং কর্মী। ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় নিখোঁজ কর্মীদের ছবি প্রকাশ করে তাদের সন্ধানের চেষ্টা চালাচ্ছে।
পরিস্থিতি পর্যালোচনায় নেপাল রাষ্ট্র ব্যাংক এবং ‘নেপাল ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন’ যৌথভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর কাছে নগদ অর্থ, সোনা-রুপো এবং সামগ্রিক সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির বিশদ বিবরণ তলব করেছে। আগামী সোমবারের মধ্যে এই চূড়ান্ত আর্থিক ক্ষতির সঠিক পরিসংখ্যান জানা যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।