ভোটের মুখে ট্রাম্পের মেগা ধামাকা: জিতলে প্রতিটি নাগরিক পাবেন ৫ লক্ষ টাকার ‘ডিভিডেন্ড’!

ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্য নীতি নিয়ে ঘরে-বাইরে প্রবল অস্বস্তিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামনেই আমেরিকার ভাগ্যনির্ধারক মিডটার্ম (মধ্যবর্তী) নির্বাচন। এমন সংকটজনক পরিস্থিতিতে রিপাবলিকান পার্টির জনসমর্থন ধরে রাখতে এক অভূতপূর্ব ও চমকপ্রদ ঘোষণা করলেন তিনি। আগামী নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে রিপাবলিকানরা জয়ী হলে দেশের প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে দেওয়া হবে ৫,০০০ ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৫ লাখ টাকা)।
কী এই ‘ট্রাম্প ডিভিডেন্ড’? টেক্সাসের ডালাসে আয়োজিত দলের নির্বাচনী কনভেনশনে এই ঘোষণা দিয়ে ট্রাম্প এর নাম দিয়েছেন ‘ট্রাম্প ডিভিডেন্ড’। তাঁর যুক্তি— একটি সফল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যেমন বছরশেষে শেয়ারহোল্ডারদের মুনাফার অংশ বা ডিভিডেন্ড দেয়, তেমনই দেশের অর্থনৈতিক সাফল্যের ভাগ পাবেন সাধারণ নাগরিকও। ট্রাম্পের দাবি, বিদেশি পণ্যের ওপর বসানো অতিরিক্ত শুল্ক (Tariff) এবং দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি থেকেই এই বিপুল পরিমাণ অর্থের সংস্থান করা হবে।
কড়া শর্ত ও কোষাগারের হিসেব তবে এই মোটা অঙ্কের অর্থের সাথে একটি বিশেষ শর্ত জুড়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, সরকারি এই টাকা কেবল আমেরিকার বাজারেই খরচ করতে হবে; চীন, জার্মানি কিংবা অন্য কোনো দেশে গিয়ে এই টাকা ওড়ানো যাবে না।
পরিসংখ্যান বলছে, আমেরিকায় বর্তমানে প্রায় ২৪ থেকে ২৭ কোটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক রয়েছেন। সকলকে ৫ হাজার ডলার করে দিতে হলে মার্কিন কোষাগার থেকে খরচ হবে প্রায় ১ থেকে ১.৩৫ ট্রিলিয়ন ডলার! এত বিপুল পরিমাণ অর্থ প্রকৃতপক্ষে কীভাবে জোগাড় করা হবে, সে বিষয়ে অবশ্য কোনো স্পষ্ট নীল নকশা দেননি ট্রাম্প।
বিরোধীদের তোপ ও রাজনৈতিক বিতর্ক ট্রাম্পের এই ঘোষণা সামনে আসতেই তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে বিরোধী ডেমোক্র্যাট শিবির। তাদের দাবি, যেখানে আমেরিকার জাতীয় ঋণের পরিমাণ প্রায় ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, সেখানে দাঁড়িয়ে এটি স্রেফ একটি দায়িত্বজ্ঞানহীন ‘ফাঁকা প্রতিশ্রুতি’ ও দেউলিয়া রাজনৈতিক চাল। বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, তলানিতে ঠেকা রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা পুনরুদ্ধার করতেই এই ‘টাকার টোপ’ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট।
এখন দেখার বিষয়, আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে ট্রাম্পের এই ৫ লাখ টাকার মাস্টারস্ট্রোক ভোটারদের মন গলাতে কতটা সফল হয়।