‘চাকরিপ্রার্থী’ থেকে ‘চাকরিদাতা’: যোগীরাজ্যে বদলে গেল নারীশক্তির সমীকরণ

উত্তরপ্রদেশে নারী ক্ষমতায়ন আজ আর কেবল কাগজে-কলমে বা কয়েকটি নির্দিষ্ট চাকরির গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই। গত সাড়ে নয় বছরে রাজ্যে ঘটেছে এক বিশাল সামাজিক ও অর্থনৈতিক রূপান্তর। নারীরা এখন কেবল পরিবারের আর্থিক দায়ভার সামলাচ্ছেন না, বরং উত্তরপ্রদেশের সার্বিক উন্নয়নের অন্যতম শক্তিশালী স্তম্ভ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন।
মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের দূরদর্শী পরিকল্পনায় স্বনির্ভর গোষ্ঠী, ব্যাংকিং, ডিজিটাল পরিষেবা, কৃষি থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র শিল্প ও আধুনিক উদ্যোক্তার জগতে তৈরি হয়েছে কাজের অবাধ ক্ষেত্র। নারীদের শুধুমাত্র প্রথাগত ‘সম্মানে’র চোখে না দেখে, রাজ্য সরকার তাঁদের অর্থনীতির মূল ‘সৃষ্টির শক্তি’ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছে। এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ মিলছে শ্রমশক্তির পরিসংখ্যানে— আগে যেখানে রাজ্যে নারী শ্রমশক্তির অংশগ্রহণের হার ছিল মাত্র ১২ শতাংশ, তা এখন তিনগুণ লাফিয়ে পৌঁছছে ৩৬ শতাংশের উপরে।
নিরাপত্তা ও শিক্ষার মজবুত ভিত এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে সুদৃঢ় সুরক্ষা ও শিক্ষার পরিকাঠামো। রাজ্যে নারী পুলিশকর্মীর সংখ্যা ১০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৪৪ হাজারে উন্নীত করা হয়েছে। ঐতিহাসিক বীর নারীদের স্মরণে তৈরি হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা কেন্দ্র ও মহিলা পিএসি ব্যাটালিয়ন। পাশাপাশি, ‘কন্যা সুমঙ্গলা যোজনা’, ‘রানি লক্ষ্মীবাঈ স্কুটি প্রকল্প’ এবং অটল আবাসিক বিদ্যালয়ে আসন সংরক্ষণের মতো পদক্ষেপগুলো মেয়েদের আত্মবিশ্বাসের ভিতকে আরও মজবুত করেছে।
প্রযুক্তি থেকে স্টার্টআপ: অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্থনৈতিক দিক থেকেও ইউপি আজ নতুন নজির গড়েছে। ‘লাখপতি দিদি’, ‘ড্রোন দিদি’ এবং ‘বিসি সখী’-র মতো উদ্যোগের মাধ্যমে নারীরা প্রযুক্তি ও ব্যাংকিংয়ের মতো পুরুষ-শাসিত ক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছেন। ‘প্রজেক্ট গঙ্গা’-র মাধ্যমে তৈরি হচ্ছে হাজার হাজার ডিজিটাল উদ্যোক্তা। এছাড়া ‘বালিনী’ ও ‘সামর্থ্য’-র মতো দুগ্ধ সমবায়ে যুক্ত রয়েছেন ৪ লক্ষেরও বেশি নারী। লক্ষাধিক ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের পাশাপাশি বর্তমানে ২৪ হাজারের বেশি স্টার্টআপ সফলভাবে পরিচালনা করছেন নারীরাই।
উত্তরপ্রদেশের নারীরা আজ আর কেবল চাকরিপ্রার্থী নন; তাঁরা হয়ে উঠেছেন কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী এবং রাজ্যের মূল অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি।