‘ইংরেজদের মতো দেশ ভাগ করছে বিজেপি!’ ধর্মতলায় DYFI-র ‘ইনকিলাব’ সমাবেশ থেকে তীব্র হুঁশিয়ারি মীনাক্ষী-সেলিমের

কলকাতা: আবহাওয়া আর শাসকের চোখরাঙানিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রবিবাসরীয় ধর্মতলার রাজপথ ভাসল শ্বেত পতাকা আর লাল তারার মহাসমুদ্রে। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নিজেদের জমি শক্ত করতে এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক লড়াইয়ের ডাক দিয়ে আয়োজিত হলো সিপিএমের যুব সংগঠন ডিওয়াইএফআই (DYFI)-এর বহুচর্চিত ‘ইনকিলাব’ সমাবেশ।
বিজেপিকে ‘ব্রিটিশ’ তুলনা মীনাক্ষীর ধর্মতলার মঞ্চ থেকে কেন্দ্র ও রাজ্য রাজনীতিকে একযোগে তোপ দাগেন প্রাক্তন যুবনেত্রী তথা কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। বিজেপির শাসনকালকে ব্রিটিশদের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, “যেভাবে ইংরেজরা হিন্দু-মুসলিম ভাগ করে সিপাহী বিদ্রোহ দমন ও দেশভাগ করেছিল, ঠিক একই কায়দায় এই ডবল ইঞ্জিনের সরকার ধনী-দরিদ্র ও জাতপাতের রাজনীতি করে দেশকে ভাগ করছে।” লড়াইয়ের পথ সহজ নয় মেনে নিয়েও যুব কর্মীদের সাধারণ মানুষের পাশে থাকার আহ্বান জানান তিনি।
‘প্রতিহিংসা নয়, ভালোবাসার বাংলা চাই’— সরব সেলিম সমাবেশে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম যুব কর্মীদের আরও সক্রিয় হওয়ার বার্তা দেন। রাজ্যের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের শোচনীয় হাল নিয়ে সুর চড়িয়ে তিনি বলেন, “কর্মসংস্থান তৈরি না করে মানুষের মুখের গ্রাস কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ করা হচ্ছে এবং ১০০ দিনের কাজের মতো প্রকল্প বন্ধের চক্রান্ত চলছে।” একই সঙ্গে ‘প্রতিহিংসার বদলে ভালোবাসার বাংলা’ গড়ার ডাক দেন তিনি।
রাজপথে হাজার হাজার ছাত্র-যুবর ক্ষোভ রাজ্যের জেলা রূপ থেকে আসা কর্মী-সমর্থকদের মিছিলে মুখরিত হয়ে ওঠে মহানগরী। সমাবেশ থেকে বাম যুব নেতাদের স্পষ্ট বার্তা— যুবসমাজের অদম্য শক্তিকে খাটো করে দেখলে শাসকদল বড় ভুল করবে। ভাগাভাগির রাজনীতি ও মানুষের রুটি-রুজির ওপর আঘাত হেনে কোনও সরকারই বেশিদিন টিকে থাকতে পারে না।
উক্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন প্রাক্তন যুবনেতা আভাস রায়চৌধুরী, ধ্রুবজ্যোতি সাহা এবং সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হিমগ্নরাজ বন্দ্যোপাধ্যায়।