‘তারিখ পে তারিখ’ যুগের ইতি? নয়া আইনে মাত্র ৩ বছরেই মিলবে সুপ্রিম কোর্টের বিচার!

ভারতের বিচারব্যবস্থায় বহুদিনের পরিচিত ‘তারিখ পে তারিখ’ সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বড় ঘোষণার কথা জানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সম্প্রতি ভোপালে নতুন ফৌজদারি আইন সম্পর্কিত এক অনুষ্ঠানে তিনি উল্লেখ করেন যে, নতুন আইনি কাঠামোর পূর্ণ বাস্তবায়ন ঘটলে এফআইআর দায়ের করা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ আদালত অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত পুরো বিচারপ্রক্রিয়া মাত্র তিন বছরের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। পূর্বে ঔপনিবেশিক আমলে তৈরি আইনগুলো শাসকগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করলেও, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়া ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’, ‘ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা’ এবং ‘ভারতীয় সাক্ষ্য অধিনিয়ম’-এর মূল লক্ষ্য হলো নাগরিকদের সুরক্ষা এবং দণ্ডের বদলে প্রকৃত ন্যায়বিচার প্রদান করা।
বিচারপ্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে এবং দীর্ঘসূত্রিতা কমাতে তদন্ত ও সাক্ষ্য প্রমাণের ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি ও ফরেনসিক ব্যবস্থাকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ই-এফআইআর, জিরো এফআইআর এবং সাত বছর বা তার বেশি শাস্তিযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে ফরেনসিক তদন্ত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রমাণ সংগ্রহের গতি অনেকটাই বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, পুলিশ, প্রসিকিউশন ও বিচার বিভাগের সর্বস্তরে নির্দিষ্ট সময়সীমা বজায় রাখা এবং ডিজিটাল পরিকাঠামোর সঠিক প্রয়োগ ঘটলে ভারতের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থা বিশ্বের অন্যতম আধুনিক ও সময়বদ্ধ ব্যবস্থায় পরিণত হবে। সরকারের এই যুগান্তকারী পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বহু বছরের ঝুলে থাকা মামলার বোঝা কমে সাধারণ মানুষের জন্য দ্রুত ন্যায়বিচার পাওয়া সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।