নয়ডায় শ্রমিক তাণ্ডব: ৪৩ হাজার শ্রমিকের ক্ষোভে পুড়ল ৮০টি কারখানা, অবশেষে টনক নড়ল সরকারের!

দিল্লি সংলগ্ন হাই-টেক শহর নোয়েডায় গত ১৩ এপ্রিল সোমবার যে ভয়াবহ সহিংসতার ছবি সামনে এসেছে, তা প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কঙ্কালসার রূপটি উন্মোচিত করেছে। টানা পাঁচ দিন ধরে দানা বাঁধতে থাকা শ্রমিকদের অসন্তোষ শেষ পর্যন্ত আগ্নেয়গিরির মতো বিস্ফোরিত হয়। এই তাণ্ডবে ৮০টিরও বেশি কারখানা ভাঙচুর এবং কয়েক ডজন যানবাহন ভস্মীভূত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং শ্রমিকদের শান্ত করতে শেষ পর্যন্ত যোগী সরকার তড়িঘড়ি করে ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ইন্টেলিজেন্সের ব্যর্থতা ও পুলিশের অসহায়ত্ব
গত ৯ এপ্রিল থেকেই শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন। তা সত্ত্বেও ১৩ এপ্রিলের এই গণ-বিস্ফোরণের আগাম আভাস পেতে পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগ কেন ব্যর্থ হলো, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে।
- সতর্কবার্তাকে উপেক্ষা: ১০ এপ্রিল এলাকায় যান চলাচল ঘুরিয়ে দিতে হয়েছিল, যা ছিল বড় কোনো গোলমালের স্পষ্ট ইঙ্গিত। তবুও প্রশাসন বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করেনি।
- গুরুগ্রাম থেকে শিক্ষা নেই: সম্প্রতি গুরুগ্রামের মানেসরেও একই ধরনের শ্রমিক সহিংসতা ঘটেছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকে নোয়েডা প্রশাসন কোনো সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়নি।
- গোয়েন্দা ব্যর্থতা: স্থানীয় গোয়েন্দা ইউনিট (LIU) বুঝতেও পারেনি যে প্রায় ৪৫ হাজার শ্রমিক একসঙ্গে রাস্তায় নেমে তাণ্ডব চালাতে পারে।
তিন ঘণ্টার তাণ্ডব ও যুদ্ধক্ষেত্রের রূপ
সোমবার সকালে নোয়েডার ফেজ-২, সেক্টর-৫৯, ৬২ এবং ৬৩ এলাকা আক্ষরিক অর্থেই যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়। সকাল থেকেই উত্তেজিত জনতা একের পর এক কারখানায় পাথর ছুড়তে শুরু করে এবং গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। বেশ কিছু জায়গায় বিশাল জমায়েতের সামনে মুষ্টিমেয় পুলিশকর্মীকে অসহায় দর্শক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা এই চরম অরাজকতার পর পুলিশ কমিশনার লক্ষ্মী সিংয়ের নেতৃত্বে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
সরকারের ড্যামেজ কন্ট্রোল ও বেতন বৃদ্ধি
শ্রমিকদের উগ্র মূর্তি দেখে সোমবার গভীর রাতেই নড়েচড়ে বসে উত্তরপ্রদেশ সরকার। পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির ঘোষণা করা হয়েছে। বিভিন্ন বিভাগ অনুযায়ী এই মজুরি সর্বোচ্চ ৩০০০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। নতুন এই হার ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে। সরকার এটিকে সাময়িক স্বস্তি হিসেবে অভিহিত করলেও দ্রুত ওয়েজ বোর্ডের মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতি ও আইনি পদক্ষেপ
পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে এলাকায় শান্তি বজায় রয়েছে। সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন থানায় উপদ্রবকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের প্রক্রিয়া শুরু করেছে প্রশাসন।
একঝলকে
- বিক্ষোভের কারণ: দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া বেতন ও ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবি।
- শ্রমিক সংখ্যা: বিক্ষোভে অংশ নেন প্রায় ৪৫ হাজার শ্রমিক।
- ক্ষয়ক্ষতি: ৮০টির বেশি কারখানা ও বহু যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত।
- সরকারের পদক্ষেপ: ন্যূনতম মজুরি ৩০০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি।
- কার্যকরী কাল: ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে নতুন বেতনের হার কার্যকর।