“আগে জনগণনা, পরে সীমানা পুনর্নির্ধারণ”: মোদী সরকারকে কড়া চ্যালেঞ্জ সোনিয়া গান্ধীর!

“আগে জনগণনা, পরে সীমানা পুনর্নির্ধারণ”: মোদী সরকারকে কড়া চ্যালেঞ্জ সোনিয়া গান্ধীর!

ভারতের লোকসভা নির্বাচনে আসন সংখ্যা বাড়ানো এবং নারী সংরক্ষণ বিল কার্যকর করার ক্ষেত্রে ‘পরি we’ বা সীমানা নির্ধারণ প্রক্রিয়া নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে সতর্ক করেছেন কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী। তাঁর মতে, কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ নয়, বরং জনশুমারির ভিত্তিতেই স্বচ্ছতার সাথে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা উচিত।

সীমানা নির্ধারণের আগে জনশুমারি জরুরি

সোনিয়া গান্ধী স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, লোকসভার আসন সংখ্যা বৃদ্ধির যেকোনো উদ্যোগ নেওয়ার আগে দেশে যথাযথ জনশুমারি বা সেন্সাস হওয়া বাধ্যতামূলক। তাঁর মতে, সঠিক পরিসংখ্যান ছাড়া পরিসিমনের কাজ শুরু করা হলে তা গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এই প্রক্রিয়াটি হতে হবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত।

ছোট রাজ্যগুলোর স্বার্থ রক্ষায় উদ্বেগ

প্রস্তাবিত পরিসিমন ব্যবস্থায় যে রাজ্যগুলো পরিবার পরিকল্পনায় সফল হয়েছে বা যে রাজ্যগুলো আয়তনে ছোট, তাদের প্রতিনিধিত্ব কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সোনিয়া গান্ধী এই বিষয়ে বলেন:

  • জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের পুরস্কার হিসেবে কোনো রাজ্যের সংসদীয় ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া উচিত নয়।
  • ছোট রাজ্যগুলো যেন কোনোভাবেই রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
  • উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের মধ্যে রাজনৈতিক ভারসাম্যের ব্যাঘাত ঘটালে তা সংবিধানের ওপর আঘাত হিসেবে গণ্য হতে পারে।

নারী সংরক্ষণে ওবিসি কোটার দাবি

নারী সংরক্ষণ বা ‘নারি শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ নিয়ে কংগ্রেসের অবস্থান পুনরুক্ত করে তিনি ওবিসি (OBC) উপ-কোটার দাবি তুলেছেন। ২০২৩ সালে যখন এই বিল পাস হয়েছিল, তখন থেকেই কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এই দাবি জানিয়ে আসছেন। সোনিয়া গান্ধীর মতে, পিছিয়ে পড়া শ্রেণির নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত না করলে এই সংরক্ষণের মূল উদ্দেশ্য সফল হবে না।

সরকারের প্রতি অগণতান্ত্রিকতার অভিযোগ

তড়িঘড়ি করে পরিসিমনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পরিবর্তন আনার চেষ্টার সমালোচনা করেছেন এই প্রবীণ নেত্রী। তাঁর অভিযোগ, সরকার কঠিন সময়ে নিজের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে এই বিষয়গুলো ব্যবহার করছে। এর পরিবর্তে তিনি আগামী জুলাই মাসের সংসদীয় অধিবেশনে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকার এবং দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

একঝলকে

  • পরিসিমনের আগে দেশে জনশুমারি বা সেন্সাস সম্পন্ন করার দাবি।
  • সীমানা নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখার আহ্বান।
  • পরিবার পরিকল্পনা মেনে চলা এবং ছোট রাজ্যগুলোর আসন সংখ্যা যেন না কমে, সেই নিশ্চয়তা চাওয়া।
  • নারী সংরক্ষণ বিলে ওবিসি নারীদের জন্য আলাদা উপ-কোটা বরাদ্দের দাবি।
  • গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী পাসের আগে সর্বদলীয় বৈঠকের মাধ্যমে ঐক্যমত্য তৈরির পরামর্শ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *