নার্সের অমানবিক কাণ্ড! প্রসবের সময় টেনে বের করতে গিয়ে শরীর থেকে আলাদা হল নবজাতকের মাথা

উত্তর প্রদেশের বস্তি জেলায় কুদরহা কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে (সিএইচসি) চিকিৎসার চরম গাফিলতিতে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। প্রসবের সময় এক নার্সের অপেশাদার ও অমানবিক আচরণের ফলে একটি নবজাতকের শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এই ঘটনায় সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কঙ্কালসার দশা এবং কর্মীদের অদক্ষতা আরও একবার প্রকাশ্যে এসেছে।
ঘটনার বিবরণ ও নার্সের মারাত্মক ভুল
কালওয়ারি থানা এলাকার মুরাদপুর গ্রামের বাসিন্দা প্রীতম কুমার তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী প্রেমা দেবীকে প্রসব যন্ত্রণার কারণে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছিলেন। অ্যাম্বুলেন্সেই প্রসবের পরিস্থিতি তৈরি হয়। অভিযোগ উঠেছে যে, সেই সময় কর্তব্যরত নার্স কুসুম কোনো বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই তড়িঘড়ি করে প্রসব করানোর চেষ্টা করেন। শিশুটি গর্ভে উল্টো অবস্থানে (ব্রিচ পজিশন) থাকলেও নার্স প্রসূতিকে ইনজেকশন দিয়ে জোরপূর্বক শিশুটিকে টেনে বের করার চেষ্টা করেন। অত্যধিক টানের ফলে শিশুটির শরীর দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। এতে নবজাতকের ধড় অংশটি নার্সের হাতে চলে আসে এবং মাথাটি মায়ের গর্ভেই আটকে থাকে।
দায় এড়ানোর চেষ্টা ও বেসরকারি হাসপাতালের হয়রানি
এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর সিএইচসি কর্মীরা নিজেদের দোষ ঢাকতে তড়িঘড়ি করে রোগীকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে রেফার করে দেন। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, সেই বেসরকারি হাসপাতালটিও মানবিকতা না দেখিয়ে চিকিৎসা শুরুর আগেই বিভিন্ন পরীক্ষার নামে ৭,০০০ টাকা হাতিয়ে নেয়। শেষ পর্যন্ত কোনো উপায় না দেখে অসহায় স্বামী তার স্ত্রীকে নিয়ে বস্তি মেডিকেল কলেজে পৌঁছান।
জটিল অপারেশন ও বর্তমান পরিস্থিতি
বস্তি মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকরা দুই ঘণ্টার এক জটিল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মায়ের গর্ভে আটকে থাকা নবজাতকের মাথাটি বের করে আনেন। চিকিৎসকদের মতে, শিশু যখন উল্টো অবস্থানে থাকে, তখন জোর করে টেনে বের করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এটি একটি ‘হাই-রিস্ক’ কেস ছিল, যেখানে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারই একমাত্র নিরাপদ পথ ছিল। বর্তমানে প্রসূতির অবস্থা আশঙ্কাজনক হলেও স্থিতিশীল।
স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর প্রভাব ও বিশ্লেষণ
এই ঘটনাটি কেবল একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং তৃণমূল স্তরের স্বাস্থ্যকর্মীদের যথাযথ প্রশিক্ষণের অভাব এবং দায়িত্বজ্ঞানহীনতার চরম বহিঃপ্রকাশ। একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতে নার্সের এমন হঠকারী সিদ্ধান্ত একটি পরিবারের স্বপ্ন চুরমার করে দিয়েছে। স্থানীয় মহলে এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং ভুক্তভোগী পরিবার অভিযুক্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
একঝলকে
- স্থান: কুদরহা কমিউনিটি হেলথ সেন্টার, বস্তি জেলা, উত্তর প্রদেশ।
- ঘটনা: প্রসবের সময় শিশুর পা ধরে টানায় শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন।
- অভিযুক্ত: কর্তব্যরত নার্স কুসুম এবং হাসপাতালের অদক্ষ ব্যবস্থাপনা।
- বর্তমান অবস্থা: প্রসূতি চিকিৎসাধীন, নবজাতকের মৃত্যু।
- মূল কারণ: চিকিৎসকের অনুপস্থিতি এবং ব্রিচ পজিশন ডেলিভারিতে নার্সের অপেশাদার প্রচেষ্টা।