৬ বছরে ২০ কেজি ওজন কমিয়ে ডায়াবেটিস জয়! অমিত শাহের সুস্থতার ‘সিক্রেট’ মন্ত্র কী?

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিজের শারীরিক পরিবর্তনের এক অনুপ্রেরণামূলক অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে এনেছেন। দীর্ঘ সময় ডায়াবেটিসের সাথে লড়াই করার পর, বর্তমানে তিনি কোনো প্রকার অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ বা ইন্সুলিন ছাড়াই সুস্থ জীবনযাপন করছেন। ২০২৫ সালের বিশ্ব লিভার দিবস উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে তিনি জানান, কঠোর শৃঙ্খলা এবং জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তনের মাধ্যমেই এই অসাধ্য সাধন সম্ভব হয়েছে।
জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন
২০২০ সালের মে মাস থেকে অমিত শাহ তার দৈনন্দিন রুটিনে পদ্ধতিগত পরিবর্তন আনতে শুরু করেন। দীর্ঘ ছয় বছরের এই লড়াইয়ে তিনি মূলত প্রাকৃতিকভাবে রোগ নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দিয়েছিলেন। তার মতে, সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মেনে চলা গেমচেঞ্জার হিসেবে কাজ করেছে:
- পর্যাপ্ত ঘুম: নিয়মিত অন্তত ৬ ঘণ্টা গভীর ঘুম নিশ্চিত করা।
- জলপান: সারাদিনে শরীরভেদে পর্যাপ্ত পরিমাণ জল পান করা।
- সুষম খাদ্য: বাইরের প্রক্রিয়াজাত খাবার ও অতিরিক্ত চিনি বর্জন করে ঘরের তৈরি পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ।
- নিয়মিত ব্যায়াম: শরীরকে সচল রাখতে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় শারীরিক কসরত করা।
ওজন হ্রাস ও শারীরিক সক্ষমতা
জীবনযাত্রার এই পরিবর্তনের ফলে অমিত শাহের ওজন ২০ কেজিরও বেশি কমেছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, কোনো বড় পরিবর্তন রাতারাতি ঘটে না; বরং ছোট ছোট অভ্যাস টানা বজায় রাখলে দীর্ঘমেয়াদী সুফল পাওয়া যায়। বর্তমানে তিনি কোনো প্রকার কৃত্রিম ওষুধের ওপর নির্ভর না করেই কর্মক্ষম রয়েছেন, যা সাধারণ মানুষের জন্য এক বিশেষ বার্তা।
তরুণ প্রজন্মের জন্য পরামর্শ
অনুষ্ঠানে তিনি বর্তমান সময়ের তরুণদের উদ্দেশ্যে শরীর ও মনের স্বাস্থ্যের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রত্যেকের উচিত নিজের শরীরের জন্য প্রতিদিন অন্তত দুই ঘণ্টা ব্যায়াম এবং মনের সতেজতার জন্য পর্যাপ্ত ঘুমের অভ্যাস করা। কোনো রকম শর্টকাট বা ক্র্যাশ ডায়েট না করে ধারাবাহিকতার ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
লিভারের যত্ন ও সতর্কতা
লিভার সুস্থ রাখার বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার পরিহার করে খাদ্যতালিকায় সবুজ শাকসবজি, টক জাতীয় ফল এবং হলুদের মতো উপাদান রাখার কথা বলা হয়েছে। অমিত শাহের এই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে, নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগকেও নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম।
একঝলকে
- সময়কাল: ২০২০ সালের মে মাস থেকে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন।
- সাফল্য: ২০ কেজির বেশি ওজন হ্রাস এবং ওষুধ ছাড়াই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ।
- মূল মন্ত্র: পর্যাপ্ত ঘুম, সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত ব্যায়াম।
- বিশেষ অর্জন: বর্তমানে কোনো অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ বা ইন্সুলিন ব্যবহার করছেন না।
- পরামর্শ: প্রতিদিন ২ ঘণ্টা ব্যায়াম ও অন্তত ৬ ঘণ্টা ঘুম জরুরি।