আমেরিকার বাঙ্কার বাস্টারের মারণ আঘাতে খতম খামেনেই এবং ইরানে ধ্বংসলীলার রুদ্ধশ্বাস ভিডিও প্রকাশ

আমেরিকার বাঙ্কার বাস্টারের মারণ আঘাতে খতম খামেনেই এবং ইরানে ধ্বংসলীলার রুদ্ধশ্বাস ভিডিও প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

দীর্ঘদিন ধরে চলা চরম উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ইরানের বুকে প্রলয়ংকরী আঘাত হানল আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ বাহিনী। শনিবারের সেই রক্তক্ষয়ী অভিযানে মৃত্যু হয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইসহ প্রশাসনের একাধিক শীর্ষ আধিকারিকের। রবিবাসরীয় সকালে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) এই অভিযানের এমন কিছু হাড়হিম করা ভিডিও ও ছবি প্রকাশ্যে এনেছে, যা দেখে শিউরে উঠছে গোটা বিশ্ব। যদিও এই ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবে যুদ্ধের ভয়াবহতা ফুটে উঠেছে প্রতিটি ফ্রেমে।

মার্কিন প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এই অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’। প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, উত্তাল সমুদ্রের বুক থেকে মার্কিন রণতরী এবং ডেস্ট্রয়ারগুলো একের পর এক টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে। ধোঁয়ায় আকাশ ঢেকে দিয়ে তেহরানের নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর দিকে ধেয়ে যাচ্ছে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ইরানকে বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও তারা কর্ণপাত করেনি। তাই মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরাসরি নির্দেশে দেশটির সেনা, নৌবাহিনী, বায়ুসেনা এবং কোস্টগার্ড যৌথভাবে এই ‘নির্ণায়ক’ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

বাঙ্কার বাস্টারের দাপটে মাটির ২০০ ফুট নিচেও মেলেনি রক্ষা

এই অভিযানে সবথেকে আলোচিত অস্ত্রটি হলো জিবিইউ-২৮ বা ‘বাঙ্কার বাস্টার’। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি একটি দানবীয় বোমা যার ওজন প্রায় ১৩,৬০৭ কেজি। ২০.৭ ফুট দীর্ঘ এই বোমার ওপর রয়েছে ১৪ হাজার কেজির ইস্পাতের আস্তরণ। রেডারকে ফাঁকি দিতে সক্ষম বি-২ স্টেলথ বোমারু বিমান থেকে এই বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে। মাটির নিচে ২০০ ফুট গভীরতায় থাকা কংক্রিটের বাঙ্কারকে অনায়াসেই গুঁড়িয়ে দিতে সক্ষম এই বাঙ্কার বাস্টার। আয়াতোল্লা খামেনেই ও অন্যান্য পদস্থ কর্তারা যখন মাটির নিচে নিরাপদ আশ্রয়ে ছিলেন বলে ভাবা হচ্ছিল, ঠিক তখনই এই বিধ্বংসী বোমা তাদের শেষ ঠিকানায় পরিণত হয়।

তেহরানের আকাশে আগুনের বৃষ্টি এবং ইজরায়েলের আক্রমণ

অভিযানে শুধু আমেরিকা নয়, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছে ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF)। তারা পৃথক একটি ভিডিও প্রকাশ করে দাবি করেছে, ইরানের সুপ্রিম লিডার খামেনেই এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের দপ্তর লক্ষ্য করে সূক্ষ্ম নিশানায় হামলা চালানো হয়েছে। ইজরায়েলি হামলায় তেহরানের একাধিক কৌশলগত ইমারত মুহূর্তের মধ্যে ধুলোয় মিশে গিয়েছে। কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছে ইরানের আকাশ। এফ-৩৫ এবং এফ/এ-১৮ যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি আমেরিকার লুকাস ড্রোনও এই ধ্বংসলীলায় অংশ নেয়।

প্রাথমিক তথ্যানুসারে, এই হামলায় শতাধিক সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। সেন্ট্রাল কমান্ডের অ্যাডমিরাল ব্রাড কুপার জানিয়েছেন, আমাদের সাহসী জওয়ানরা প্রেসিডেন্টের নির্দেশ পালন করেছেন এবং শত্রুর মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে সক্ষম হয়েছেন। এই মারণ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে যে আমূল পরিবর্তন আসতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য। ইরান পালটা কোনো পদক্ষেপ নেয় কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে আন্তর্জাতিক মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *