ভোটার তালিকা থেকে লক্ষ লক্ষ নাম বাদ, সরাসরি হাইকোর্টের দ্বারস্থ তৃণমূল

ভোটার তালিকা সংশোধন ও নাম বাদ যাওয়া নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে সংঘাত চরম আকার ধারণ করেছে। লক্ষ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে এবার সরাসরি কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। মঙ্গলবার তৃণমূলের পক্ষ থেকে প্রধান বিচারপতিকে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে, যেখানে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং আইনি বিধি মেনে চলার দাবি জানানো হয়েছে। এর আগে তৃণমূল সাংসদ সাগরিকা ঘোষ সাংবাদিক সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ তুলেছিলেন।
হাইকোর্টকে লেখা চিঠিতে তৃণমূল জানিয়েছে যে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গের ১৯টি জেলায় ট্রাইব্যুনাল গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও সেগুলির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে অনলাইনে এবং অফলাইনে আপিল জমা দেওয়ার যে পদ্ধতি বাতলানো হয়েছে, তা আরও সহজ করার দাবি জানিয়েছে শাসক দল। তৃণমূলের প্রস্তাব, আপিল জমা নেওয়ার প্রক্রিয়াটি শুধুমাত্র জেলা শাসক বা মহকুমা শাসকের দপ্তরে সীমাবদ্ধ না রেখে ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিস বা বিডিও অফিস পর্যন্ত বিস্তৃত করা হোক। এছাড়া, আবেদন বাতিলের কারণ স্পষ্টভাবে জানানো এবং শুনানির তারিখ আগে থেকে জানানো নিশ্চিত করার আর্জি জানানো হয়েছে।
রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এর আগেই প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের কাছে একটি চিঠি লিখেছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, প্রায় ৬০ লক্ষ মামলার নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া চললেও তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ২৩ মার্চ প্রকাশিত তালিকায় প্রায় সাড়ে সাত লক্ষ ভোটারের নাম পরিবর্তন করা হলেও বাকি ২৭ লক্ষ মামলার নিষ্পত্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। তৃণমূলের দাবি, দলের অন্তত ১১ জন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম এই তালিকায় রয়েছে, যার দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।
এদিকে, এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দপ্তরে গিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, নতুন ভোটারের নাম তোলার আড়ালে ভুয়ো ভোটার ঢোকানোর চেষ্টা চলছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিইও দপ্তরের সামনে বিজেপি ও তৃণমূল সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, আদালতের নির্দেশ অমান্য করে ফর্ম ৬ জমা নেওয়া হচ্ছে যা সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিষয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে একটি কড়া চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেছেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে সাধারণ মানুষকে চরম হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, এই প্রক্রিয়ায় ইতিমধ্যে ২০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, বিজেপি সুকৌশলে কয়েক হাজার বহিরাগত মানুষের নাম ভোটার তালিকায় ঢোকানোর চেষ্টা করছে, যা বাংলার গণতান্ত্রিক কাঠামোকে হুমকির মুখে ফেলছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে হাইকোর্টের হস্তক্ষেপই এই সমস্যার একমাত্র সমাধান বলে মনে করছে ঘাসফুল শিবির।