কংগ্রেস এখন মাওবাদী মুসলিম লীগ, প্রধানমন্ত্রী মোদীর তীব্র আক্রমণ

কেরলে বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই বিরোধী শিবিরের বিরুদ্ধে আক্রমণের ধার বাড়ালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৃহস্পতিবার ভার্চুয়াল মাধ্যমে রাজ্যের বিজেপি বুথ কর্মীদের উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সময় কংগ্রেস ও বামপন্থী দলগুলিকে তীব্র নিশানা করেন তিনি। মোদীর অভিযোগ, কংগ্রেস তাদের পুরনো গান্ধীবাদী আদর্শ বিসর্জন দিয়ে চরমপন্থী শক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। তোষণ ও বিভাজনের রাজনীতি করতে গিয়ে কংগ্রেস কার্যত ‘মাওবাদী মুসলিম লীগ কংগ্রেসে’ পরিণত হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন। তার এই আক্রমণাত্মক বয়ানকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে এখন ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী এদিন তার ভাষণে এলডিএফ (LDF) এবং ইউডিএফ (UDF) উভয় জোটকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, কেরলের এই দুই প্রধান রাজনৈতিক শক্তি ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহার করে সমাজকে বিভক্ত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। বিশেষ করে শবরীমালা মন্দিরের ভক্তদের সঙ্গে প্রশাসনের আচরণ এবং মন্দির সংক্রান্ত বিষয়ে দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বাম-কংগ্রেসকে তুলোধনা করেন। মোদী বলেন, সমবায় ব্যাঙ্কগুলিতে সাধারণ মানুষের কষ্টের উপার্জন নিয়ে নয়ছয় করা হচ্ছে এবং কেরলের মানুষ এই সব দুর্নীতির দিকে কড়া নজর রাখছেন।
দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে কংগ্রেসের রাজনীতি বিদেশের মাটিতেও ভারতের ভাবমূর্তিকে কালিমালিপ্ত করছে বলে দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে কেরলের অসংখ্য মানুষ কর্মরত রয়েছেন। অথচ কংগ্রেসের দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং নেতিবাচক মন্তব্য বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয়দের সুরক্ষা ও মর্যাদাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দিচ্ছে। নিজস্ব রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য কংগ্রেস আন্তর্জাতিক স্তরে দেশের সম্মানহানি করতেও দ্বিধা করছে না বলে তিনি অভিযোগ করেন। মোদীর মতে, এই ধরনের আচরণ প্রবাসী ভারতীয়দের জন্য বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
কেরলের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে মোদী বলেন, রাজ্যের মানুষ এখন দুর্নীতি ও লুঠপাটের রাজনীতি থেকে মুক্তি চাইছেন। এলডিএফ এবং ইউডিএফ এখন একে অপরের সমালোচনা ছেড়ে বিজেপিকে আক্রমণ করতেই বেশি ব্যস্ত। কারণ তারা বুঝতে পেরেছে যে কেরলের জনতা কেবল সরকার পরিবর্তন নয়, বরং একটি সম্পূর্ণ নতুন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে মরিয়া। কেরলের সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে বিজেপিই একমাত্র বিকল্প হিসেবে উঠে আসছে বলে প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন।
পরিশেষে দলের কর্মীদের মনোবল বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী আহ্বান জানান যেন তারা প্রতিটি মানুষের দুয়ারে পৌঁছে যান। কর্মীদের উৎসাহিত করে তিনি বলেন, ‘কেরলের প্রতিটি কার্যকর্তাই মোদী’। তৃণমূল স্তরে সংযোগ বাড়িয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি পাল্টে ফেলার ডাক দেন তিনি। নির্বাচনকে সামনে রেখে মোদীর এই আক্রমণাত্মক মেজাজ এবং কংগ্রেসকে মাওবাদী ও মুসলিম লীগের সঙ্গে তুলনা করার বিষয়টি রাজনৈতিক মহলে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।