ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিদায় কি আসন্ন? উত্তাল আমেরিকায় ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগের জোরালো জল্পনা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতাচ্যুতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এবং জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলোর জেরে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশ্লেষকরা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, জনপ্রিয় প্রেডিকশন মার্কেট ‘কালশি’-তে ট্রাম্প মেয়াদ শেষ করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে বাজির হার গত এক মাসে ২৮.৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এই পরিসংখ্যান স্পষ্ট করছে যে, মার্কিন নাগরিকদের একাংশের মধ্যে প্রেসিডেন্টের ওপর আস্থা দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে।
সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগ করে ট্রাম্পকে সরানোর বিষয়টি এখন আলোচনার কেন্দ্রে। এই ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব পালনে শারীরিক বা মানসিকভাবে অক্ষম হন, তবে উপরাষ্ট্রপতি ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা তাঁকে পদমুক্ত করতে পারেন। ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের আবহে জনৈক আইনপ্রণেতা ইতিমিধ্যেই এই সংক্রান্ত প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। তাঁর দাবি, যুদ্ধক্ষেত্রে ট্রাম্পের গৃহীত পদক্ষেপগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং তাঁর মানসিক স্থিতিশীলতা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ রয়েছে।
এই সংকটের মূলে রয়েছে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধ, যা বর্তমানে পঞ্চম সপ্তাহে পদার্পণ করেছে। শীর্ষ নেতাদের প্রাণহানি ও শিশু মৃত্যুর ঘটনায় ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর বিশ্বজুড়ে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার বিষয়ে ৪৮ ঘণ্টার চরমপত্র দিয়েও শেষ মুহূর্তে সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত তাঁর নেতৃত্বকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে। এমনকি খোদ রিপাবলিকান পার্টির অভ্যন্তরেও মার্কিন অর্থনীতিতে যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে গভীর অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।