ট্রাম্পের ডেডলাইন শেষ হওয়ার আগেই রণংদেহি ইরান, বিদ্যুৎকেন্দ্র রক্ষায় তরুণদের বিশাল মানবপ্রাচীর

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির টানটান উত্তেজনার মাঝে এক নজিরবিহীন প্রতিবাদের সাক্ষী হতে চলেছে তেহরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া সময়সীমা বা ‘ডেডলাইন’ শেষ হওয়ার ঠিক আগেই ইরানের তরুণ প্রজন্ম দেশজুড়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ঘিরে ‘মানবপ্রাচীর’ গড়ার ডাক দিয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর দু’পক্ষই এখন অনড় অবস্থানে, যা মধ্যপ্রাচ্যে বড়সড় সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালির অবরোধ তুলে না নিলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়া হবে। ট্রাম্পের দাবি, মাত্র চার ঘণ্টার মধ্যে ইরানের সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো বেসামরিক স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার সক্ষমতা রাখে মার্কিন বাহিনী। আন্তর্জাতিক মহলে একে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে গণ্য করার বিতর্ক শুরু হলেও, ট্রাম্প নিজের অবস্থানে অবিচল থেকে কঠোর সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
এই হুমকির জবাবে ইরানের ক্রীড়া ও যুব মন্ত্রণালয় দেশের ছাত্রসমাজ ও যুব সংগঠনগুলোর প্রস্তাব অনুযায়ী ‘উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য তরুণদের মানবশৃঙ্খল’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। মঙ্গলবার দুপুর থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কৌশলগত স্থাপনাগুলোতে হাজার হাজার তরুণ জমায়েত হয়ে এই প্রতীকী প্রতিরোধ গড়ে তুলছেন। মূলত দেশের সম্পদ রক্ষায় সাধারণ মানুষের এই সংকল্প ওয়াশিংটনকে এক কঠিন বার্তা দিচ্ছে।
বর্তমানে হরমুজ প্রণালি ঘিরে পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোর এই দ্বৈরথ বিশ্ব রাজনীতিতে গভীর অস্থিরতা তৈরি করেছে। একদিকে মার্কিন সামরিক শক্তি প্রদর্শনের হুমকি, অন্যদিকে ইরানের সাধারণ মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের ডাক—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখন অগ্নিগর্ভ। বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক মহলের নজর এখন তেহরানের রাজপথ ও হরমুজ প্রণালির দিকে, যেখানে যেকোনো মুহূর্তের সিদ্ধান্ত বদলে দিতে পারে আগামীর ভূ-রাজনীতি।