নিয়োগ দুর্নীতিতে দোষীদের জেল হবে, আলিপুরদুয়ারে হুঙ্কার দিলেন নিতিন নবীন

নিয়োগ দুর্নীতিতে দোষীদের জেল হবে, আলিপুরদুয়ারে হুঙ্কার দিলেন নিতিন নবীন

পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে। বুধবার আলিপুরদুয়ারে এক নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিয়ে রাজ্য সরকারের কড়া সমালোচনা করেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। তাঁর বক্তৃতায় নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে অনুপ্রবেশ এবং রাজ্যের জনবিন্যাস পরিবর্তনের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো উঠে আসে। বর্তমান শাসক দলের নীতি ও কার্যক্রমের ফলে রাজ্যের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

নিয়োগ দুর্নীতি ও কঠোর হুঁশিয়ারি

রাজ্যের আলোচিত নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে সরাসরি আক্রমণ শানান নিতিন নবীন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, এই দুর্নীতির সাথে যারা জড়িত এবং যারা সাধারণ মানুষের হক কেড়ে নিয়েছে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে তাদের প্রত্যেকের জায়গা হবে জেলহাজতে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা বা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রাখার অঙ্গীকার করেন তিনি।

অনুপ্রবেশ ইস্যু ও জনবিন্যাস পরিবর্তন

জনসভায় নিতিন নবীনের বক্তৃতার একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল অনুপ্রবেশকারী সমস্যা। তাঁর অভিযোগগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

  • জনবিন্যাসের পরিবর্তন: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার রাজ্যের সাধারণ মানুষের জমি কেড়ে নিয়ে তা অনুপ্রবেশকারীদের হাতে তুলে দিচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গের আদি জনবিন্যাস বদলে যাচ্ছে।
  • তোষণ রাজনীতির অভিযোগ: তৃণমূল সরকারের তোষণমূলক রাজনীতির কারণে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা এ রাজ্যে থিতু হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।
  • বাসিন্দাদের রাজ্যত্যাগ: আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং বর্তমান সরকারের নীতির চাপে রাজ্যের মূল বাসিন্দারা পশ্চিমবঙ্গ ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

উন্নয়নের চাকা ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

নিতিন নবীন আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন যে, একসময় পশ্চিমবঙ্গ শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে গোটা দেশকে পথ দেখাত। কিন্তু কংগ্রেস, বাম এবং বর্তমানে তৃণমূলের শাসনামলে সেই উন্নয়নের চাকা উল্টো দিকে ঘুরছে। তাঁর মতে, রাজ্যটি এখন অন্ধকারের কবলে তলিয়ে যাচ্ছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, রাজ্যে ‘ডবল-ইঞ্জিন’ সরকার গঠিত হলে অনুপ্রবেশকারীদের বিতাড়িত করা হবে এবং জনবিন্যাসের এই বিকৃতি সংশোধন করা হবে।

একঝলকে

  • আলিপুরদুয়ারের জনসভায় নিয়োগ দুর্নীতির দোষীদের জেলে পাঠানোর হুঁশিয়ারি।
  • তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশকারীদের জমি পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ।
  • তোষণ ও অব্যবস্থাপনার কারণে রাজ্যের জনবিন্যাস পরিবর্তনের দাবি।
  • বিজেপি ক্ষমতায় এলে ‘জনবিন্যাস সংশোধন’ ও অনুপ্রবেশকারী তাড়ানোর প্রতিশ্রুতি।
  • রাজ্যের বর্তমান অবস্থাকে কংগ্রেস, বাম ও তৃণমূল শাসনের সম্মিলিত ব্যর্থতা হিসেবে চিহ্নিতকরণ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *