ভারতের জন্য সুখবর, জিডিপি বৃদ্ধির হার ছুঁতে পারে ৬.৬ শতাংশ

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং বিশ্বজুড়ে চলা সামরিক উত্তেজনার মাঝেও ভারতের অর্থনীতির ভিত মজবুত রয়েছে। বিশ্বব্যাঙ্কের সাম্প্রতিক ‘সাউথ এশিয়া ইকোনমিক আপডেট’ রিপোর্টে ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ইতিবাচক চিত্র ফুটে উঠেছে। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলো যখন জ্বালানি সংকট ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় ধুঁকছে, ভারত তখন তার শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদার জোরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।
বিশ্বব্যাঙ্কের পূর্বাভাস ও বর্তমান প্রেক্ষাপট
বিশ্বব্যাঙ্কের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার হতে পারে ৬.৬ শতাংশ। এর আগে এই পূর্বাভাসের হার ছিল ৬.৩ শতাংশ। যদিও ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে বৃদ্ধির হার ৭.৬ শতাংশ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তবুও বৈশ্বিক মন্দার আবহে পরবর্তী বছরের জন্য এই ৬.৬ শতাংশ বৃদ্ধি যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের ব্যতিক্রমী অবস্থান
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে দক্ষিণ এশিয়ার সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ২০২৫ সালে এই অঞ্চলের গড় বৃদ্ধি ৭.০ শতাংশ থাকলেও, ২০২৬ সালে তা কমে ৬.৩ শতাংশে নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে। জ্বালানি তেলের অস্থির বাজার এবং বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক চাপ অনেক দেশের ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এই কঠিন সময়েও ভারত তার স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছে। ভারতের এই সাফল্যের পেছনে মূল কারণগুলো হলো:
- অভ্যন্তরীণ চাহিদা: বিদেশের বাজারের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে দেশের অভ্যন্তরে পণ্য ও পরিষেবার চাহিদা বৃদ্ধি।
- পরিকাঠামো বিনিয়োগ: সরকারি উদ্যোগে পরিকাঠামো খাতে বিপুল ব্যয়।
- ডিজিটাল ও উৎপাদন খাত: ডিজিটাল অর্থনীতির প্রসার এবং দেশীয় উৎপাদন ব্যবস্থায় গতিশীলতা।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
বিশ্বব্যাঙ্কের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জুট জানিয়েছেন যে, বিশ্ব পরিস্থিতি বর্তমানে বেশ চ্যালেঞ্জিং। বিশেষ করে যারা জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য সময়টা কঠিন। তবে তাঁর মতে, দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতির সামগ্রিক সম্ভাবনা এখনও ফুরিয়ে যায়নি এবং ভারত এক্ষেত্রে একটি বড় উদাহরণ। ভারতের এই প্রবৃদ্ধি প্রমাণ করে যে অভ্যন্তরীণ ভোগ এবং বিনিয়োগ সঠিক পথে থাকলে আন্তর্জাতিক অস্থিরতাও খুব বেশি ক্ষতি করতে পারে না।
একঝলকে
- ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ভারতের সম্ভাব্য বৃদ্ধির হার ৬.৬ শতাংশ।
- ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে জিডিপি বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৭.৬ শতাংশ।
- দক্ষিণ এশিয়ার সামগ্রিক বৃদ্ধি ৭.০ শতাংশ থেকে কমে ৬.৩ শতাংশ হওয়ার আশঙ্কা।
- ভারতের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও সরকারি পরিকাঠামো ব্যয়।
- জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা সত্ত্বেও ভারতের অবস্থান প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় অনেক বেশি সুরক্ষিত।