ইতিহাসের পাতায় নয় বরং সমাজ সংস্কারেই গুরুত্ব দিচ্ছে আরএসএস জানালেন মোহন ভাগবত

নাগপুরে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবত সংগঠনের লক্ষ্য ও আদর্শ নিয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, আরএসএস নিজেদের নাম ইতিহাসের পাতায় সোনালি অক্ষরে খোদাই করতে আগ্রহী নয়। বরং গত ১০০ বছরে সংগঠন যা কিছু অর্জন করেছে, তার সমস্ত কৃতিত্ব তিনি সমাজকে দিতে চান।
বুধবার নাগপুরের রেশমবাগ এলাকায় ড. হেডগেওয়ার স্মৃতি মন্দির চত্বরে আরএসএস-এর ব্যান্ড দল বা ‘ঘোষ পাঠক’-এর ইতিহাসের ওপর ভিত্তি করে লেখা ‘রাষ্ট্র স্বরাধনা’ নামক একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
সংঘের মূল দর্শন ও সমাজ কেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি
মোহন ভাগবত তাঁর বক্তব্যে সংগঠনের কাজের ধরন এবং সফলতার নেপথ্যে থাকা শক্তিগুলো বিশ্লেষণ করেন। তাঁর বক্তব্যের মূল দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
- সমাজের সামগ্রিক শক্তি: আরএসএস মনে করে কোনো ব্যক্তি বিশেষের অনুগ্রহে নয়, বরং সমাজের সামগ্রিক এবং যৌথ শক্তির ওপর ভিত্তি করেই লক্ষ্য পূরণ সম্ভব। সংগঠনের গত এক শতাব্দীর কাজ এই দর্শনের ওপরই দাঁড়িয়ে আছে।
- স্বয়ংসেবকদের কঠোর পরিশ্রম: সংঘের প্রতিটি অর্জনই এর স্বয়ংসেবকদের নিরলস পরিশ্রমের ফসল। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, কারো আনুকূল্য বা বিরোধিতার তোয়াক্কা না করেই আরএসএস তার আদর্শে অবিচল থেকে কাজ করে গেছে।
- ইতিহাস বনাম সেবা: নাম বা যশের কাঙাল না হয়ে সমাজ পরিবর্তনের কারিগর হিসেবে কাজ করাই আরএসএস-এর প্রধান উদ্দেশ্য। ইতিহাসের পাতায় স্থান পাওয়ার চেয়ে বাস্তব জীবনে পরিবর্তন আনাকেই তারা অগ্রাধিকার দেয়।
‘রাষ্ট্র স্বরাধনা’ বইয়ের গুরুত্ব
অনুষ্ঠানে উন্মোচিত হওয়া বইটি সম্পর্কে মোহন ভাগবত প্রশংসা করে বলেন যে, এটি বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বয়ংসেবকদের জন্য একটি দিকনির্দেশক হিসেবে কাজ করবে। ১৯২৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংঘ কীভাবে কাজ করেছে এবং আগামী দিনে তাদের পথচলা কেমন হওয়া উচিত, সেই সম্পর্কে এই বই থেকে একটি পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।
বিশ্লেষণাত্মক প্রভাব
মোহন ভাগবতের এই বক্তব্য আরএসএস-এর শতবর্ষ উদযাপনের প্রাক্কালে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে তিনি কেবল সংগঠনের কর্মীদের উদ্বুদ্ধই করেননি, বরং সাধারণ মানুষের কাছেও এই বার্তা পৌঁছে দিতে চেয়েছেন যে, সংঘ কোনো একক নেতৃত্ব বা প্রচারের ওপর নির্ভরশীল নয়। বরং হিন্দুত্ববাদী এই সংগঠনের মূল শক্তি হলো সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং রাষ্ট্র নির্মাণের সংকল্প।
একঝলকে
- নাগপুরে ‘রাষ্ট্র স্বরাধনা’ নামক বইয়ের উন্মোচন করলেন আরএসএস প্রধান।
- ইতিহাসের পাতায় নাম লেখানোর চেয়ে সামাজিক কাজে গুরুত্বারোপ।
- সংঘের সাফল্যের সম্পূর্ণ কৃতিত্ব সমাজ ও সাধারণ মানুষের প্রতি উৎসর্গ।
- ১৯২৫ সাল থেকে সংগঠনের পথচলা এবং ত্যাগের ইতিহাসের স্মৃতিচারণ।
- ব্যক্তি বিশেষের অনুগ্রহ নয়, বরং সম্মিলিত সংকল্পই আরএসএস-এর মূল শক্তি।