অধীর চৌধুরীকে খুনের ষড়যন্ত্র বহরমপুরে, কংগ্রেস প্রার্থীর কনভয়ে ট্রাকের ধাক্কা ঘিরে উত্তেজনা

অধীর চৌধুরীকে খুনের ষড়যন্ত্র বহরমপুরে, কংগ্রেস প্রার্থীর কনভয়ে ট্রাকের ধাক্কা ঘিরে উত্তেজনা

লোকসভা নির্বাচনের ঠিক আগে রণক্ষেত্র বহরমপুর। প্রচার সেরে ফেরার পথে বড়সড় দুর্ঘটনার কবলে পড়লেন বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী অধীর রঞ্জন চৌধুরী। বুধবার রাতে কান্দি থেকে ফেরার সময় তাঁর কনভয়ে একটি দ্রুতগামী ট্রাক সজোরে ধাক্কা মারে। এই ঘটনায় অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন অধীরবাবু, তবে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে একে নিছক দুর্ঘটনা মানতে নারাজ নেতৃত্ব। তাঁদের দাবি, এটি প্রবীণ এই নেতাকে সরিয়ে দেওয়ার এক ‘সুপরিকল্পিত খুনের ষড়যন্ত্র’।

ঘটনার বিবরণ ও বর্তমান পরিস্থিতি

বুধবার রাতে কান্দি এলাকায় নির্বাচনী প্রচার শেষ করে বহরমপুরে ফিরছিলেন অধীর চৌধুরী। তাঁর কনভয়ের একেবারে সামনের দিকে ছিল পুলিশের এসকর্ট ভ্যান এবং ঠিক তার পিছনেই ছিল প্রার্থীর গাড়ি। সেই সময় একটি বেপরোয়া ট্রাক এসে সরাসরি কনভয়ের সামনের গাড়িতে ধাক্কা মারে। এই সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই ছিল যে, কংগ্রেসের মিডিয়া ইনচার্জ কেতন জয়সওয়াল ঘাড়ে গুরুতর চোট পেয়েছেন। বর্তমানে অধীর চৌধুরী নিরাপদে নিজের বহরমপুরের বাসভবনে ফিরলেও, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলা জুড়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।

কংগ্রেসের গুরুতর অভিযোগ ও ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব

ঘটনার পর থেকেই জেলা কংগ্রেস নেতৃত্বের মধ্যে ক্ষোভ দানা বেঁধেছে। বিশেষ করে পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা এবং ঘটনার ধরন নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তাঁরা।

  • লক্ষ্য ছিল প্রার্থীর গাড়ি: মিডিয়া ইনচার্জ কেতন জয়সওয়ালের দাবি, ট্রাকটি যেভাবে ধাক্কা মেরেছে, তাতে অধীরবাবুর গাড়িটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে সেটি পাশের খালে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল।
  • ধারাবাহিক বিক্ষোভ: গত কয়েকদিন ধরেই জেলার বিভিন্ন প্রান্তে অধীর চৌধুরীর প্রচার ঘিরে বিক্ষোভ ও ‘গো-ব্যাক’ স্লোগান দেখা যাচ্ছিল। কংগ্রেসের মতে, সেই বিরোধিতারই চরম রূপ এই হামলা।
  • পুলিশের ভূমিকা: অভিযোগ উঠেছে যে, ঘটনার প্রায় আধ ঘণ্টা পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এই বিলম্বের কারণে ষড়যন্ত্রের সন্দেহ আরও জোরালো হয়েছে।
  • আইনি পদক্ষেপ: এই গোটা ঘটনায় পুলিশের কাছে এফআইআর (FIR) দায়ের করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কংগ্রেস নেতৃত্ব।

নিরাপত্তা বৃদ্ধি ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

অধীর চৌধুরীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশাসন যে আগে থেকেই উদ্বিগ্ন ছিল, তার প্রমাণ মেলে গত মঙ্গলবার নেওয়া সিদ্ধান্তে। তাঁর কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা ‘ওয়াই প্লাস’ (Y+) ক্যাটাগরি বজায় রেখেই আরও ৫ জন বাড়তি জওয়ান নিয়োগ করা হয়েছিল। বর্তমানে ১০ জন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান এবং রাজ্য পুলিশের ২ জন কনস্টেবল তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন। তা সত্ত্বেও খোদ প্রার্থীর কনভয়ে ট্রাকের ধাক্কার ঘটনায় নিরাপত্তা বলয়ের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

প্রভাব ও বিশ্লেষণ

নির্বাচনের মুখে এই ঘটনা মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। একদিকে যেমন প্রার্থীর নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, অন্যদিকে এই ‘ষড়যন্ত্রের’ তত্ত্ব ভোটারদের আবেগে কোনো প্রভাব ফেলে কি না, সেটাই এখন দেখার। রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের আগে এমন ঘটনা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে।

এক ঝলকে

  • স্থান ও কাল: বুধবার রাতে বহরমপুর ফেরার পথে কান্দি এলাকা।
  • মূল ঘটনা: দ্রুতগামী ট্রাকের ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত অধীর চৌধুরীর কনভয়।
  • হতাহত: প্রার্থী নিরাপদ থাকলেও আহত হয়েছেন মিডিয়া ইনচার্জ কেতন জয়সওয়াল।
  • অভিযোগ: এটি একটি সুপরিকল্পিত খুনের চেষ্টা বলে দাবি কংগ্রেসের।
  • নিরাপত্তা: সম্প্রতি নিরাপত্তা বাড়িয়ে ১০ জন কেন্দ্রীয় জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে।
  • পরবর্তী পদক্ষেপ: ঘটনার তদন্ত চেয়ে পুলিশের কাছে এফআইআর দায়ের করছে কংগ্রেস।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *