রাফায়েল চুক্তিতে মেগা রদবদল, ৯৬টি যুদ্ধবিমান তৈরিতে আম্বানির বদলে নতুন পার্টনার খুঁজছে কেন্দ্র

ভারতের প্রতিরক্ষা খাতে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। ফরাসি যুদ্ধবিমান নির্মাতা সংস্থা দাসো এভিয়েশন এবং অনিল আম্বানির রিলায়েন্স অ্যারোস্ট্রাকচারের দীর্ঘদিনের যৌথ উদ্যোগে বড় ধরনের রদবদল ঘটতে চলেছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বিশেষ তৎপরতায় ‘ডাসল্ট রিলায়েন্স অ্যারোস্পেস লিমিটেড’ (DRAL) থেকে আম্বানির রিলায়েন্সের ৪৯ শতাংশ অংশীদারিত্ব সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে সূত্রের খবর। কেন্দ্রের লক্ষ্য হলো, রিলায়েন্সের পরিবর্তে আরও দক্ষ এবং আর্থিকভাবে শক্তিশালী কোনো দেশীয় বেসরকারি সংস্থাকে এই মেগা প্রজেক্টে যুক্ত করা।
৯৬টি রাফায়েল তৈরি হবে ভারতে
ভারতের উচ্চাভিলাষী ১১৪টি মাল্টি-রোল ফাইটার এয়ারক্রাফট (MRFA) কেনার পরিকল্পনাই এই পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি। এই পরিকল্পনার অধীনে ১৮টি বিমান সরাসরি ফ্রান্স থেকে আসবে। তবে বাকি ৯৬টি রাফায়েল বিমান ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের আওতায় ভারতেই তৈরি হবে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফল করতে কেন্দ্র এমন এক অংশীদার চাইছে যারা প্রযুক্তিগত ও আর্থিক দিক থেকে অনেক বেশি সক্ষম।
কেন বাদ পড়ছে রিলায়েন্স ও সম্ভাব্য নতুন অংশীদার
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, রিলায়েন্স অ্যারোস্ট্রাকচারের বর্তমান অংশীদারিত্ব বিক্রির সম্ভাবনা এখন প্রবল। সরকার কোনো একক সংস্থার ওপর নির্ভর না করে একাধিক সক্ষম বেসরকারি সংস্থাকে এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করতে আগ্রহী। বর্তমানে এই দৌড়ে টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস (TASL) এবং এলঅ্যান্ডটি (L&T)-র মতো বড় কর্পোরেট নামগুলো নিয়ে জোর জল্পনা চলছে। এছাড়া দাসো এভিয়েশন বর্তমানে ড্রাল-এর নিয়ন্ত্রণ সরাসরি নিজেদের হাতে নিয়েছে, যা ভারতে তাদের দীর্ঘমেয়াদী মহাকাশ পরিকল্পনারই অংশ।
গ্লোবাল হাব হওয়ার পথে ভারত
এই পুনর্গঠনের লক্ষ্য কেবল যুদ্ধবিমান তৈরি নয়, বরং ভারতকে একটি আন্তর্জাতিক রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা।
- MRO সেন্টার: পুনর্গঠিত ড্রাল রাফায়েল বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত এবং ওভারহোল (MRO) কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।
- আঞ্চলিক সেবা: ভারত শুধু নিজস্ব বিমান নয়, বরং এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর রাফায়েল বিমানের সার্ভিসিং হাব হয়ে উঠবে।
- প্রযুক্তি হস্তান্তর: নতুন পার্টনারকে দাসো থেকে সরাসরি উন্নত প্রযুক্তি গ্রহণ এবং জটিল সাপ্লাই চেইন পরিচালনার সক্ষমতা রাখতে হবে।
- দেশীয় উপকরণ: লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে যে, রাফায়েল উৎপাদনে অন্তত ৬০ শতাংশ দেশীয় উপকরণের ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এই সাহসী সিদ্ধান্ত সফল হলে ভারতের মহাকাশ উৎপাদন শিল্পে নতুন গতির সঞ্চার হবে। আম্বানির রিলায়েন্স সরে যাওয়া এবং নতুন কোনো শক্তিশালী পার্টনারের অন্তর্ভুক্তি ভারতকে বিশ্ব মানচিত্রে প্রতিরক্ষা উৎপাদনের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এক ঝলকে
- রিলায়েন্স অ্যারোস্ট্রাকচারের ৪৯ শতাংশ অংশীদারিত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু।
- ভারতের ১১৪টি রাফায়েল কেনার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ৯৬টি বিমান ভারতেই তৈরি হবে।
- টাটা বা এলঅ্যান্ডটি-র মতো শক্তিশালী পার্টনারের অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা।
- রাফায়েল উৎপাদনে অন্তত ৬০ শতাংশ দেশীয় যন্ত্রাংশ ব্যবহারের লক্ষ্যমাত্রা।
- দেশেই তৈরি হবে রাফায়েল বিমানের গ্লোবাল মেইনটেন্যান্স বা MRO হাব।