বন্ধুর ফাঁদে বলি? এসি কোচে ৪৮ বোতল মদ নিয়ে ধরা পড়ল পলিটেকনিক পড়ুয়া!

উত্তরপ্রদেশের ইটাওয়া জংশনে জিআরপি (GRP) পুলিশ এক অভিনব মাদক পাচারের চেষ্টা নস্যাৎ করেছে। সিকিম মহানন্দা এক্সপ্রেসের ভিভিআইপি ফার্স্ট ক্লাস এসি কোচকে (H1) নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করে দিল্লি থেকে বিহারে মদ পাচার করার সময় এক পলিটেকনিক ছাত্রকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বিলাসবহুল কামরায় তল্লাশি ও ছাত্র গ্রেপ্তার
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র কুমার প্ল্যাটফর্ম নম্বর ৩-এ মহানন্দা এক্সপ্রেস থামার পর বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। ট্রেনের এইচ-১ কোচে তল্লাশি চালিয়ে বিহারের বেগুসরাইয়ের বাসিন্দা ২২ বছর বয়সী গৌরব কুমারকে আটক করা হয়। সন্দেহ এড়াতে সে ট্রেনের সবচেয়ে দামি কামরার টিকিট বুক করেছিল।
ব্যাগ ভর্তি মদের বোতল উদ্ধার
অভিযুক্ত ছাত্রের কাছে থাকা চারটি ব্যাগ এবং একটি ট্রলি ব্যাগ পরীক্ষা করে পুলিশ স্তম্ভিত হয়ে যায়। ব্যাগগুলোর ভেতর থেকে নামী ব্র্যান্ডের মোট ৪৮টি বিদেশি মদের বোতল উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, দিল্লির সাশ্রয়ী মূল্যের মদ সংগ্রহ করে বিহারের নিষিদ্ধ মদের বাজারে উচ্চমূল্যে বিক্রির উদ্দেশ্যে এই চালান নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।
পুলিশের তদন্ত ও পাচারকারীর অজুহাত
জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত ছাত্র দাবি করেছে যে সে নির্দোষ। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সে কেবল দিল্লি ভ্রমণে গিয়েছিল এবং জনৈক বন্ধু তার ফেরার টিকিট ও ব্যাগগুলো গুছিয়ে দিয়েছিল। তবে পুলিশ এই দাবিকে নাকচ করে দিয়েছে। কারণ বিহারের মতো রাজ্যে যেখানে মদ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, সেখানে এমন বিপুল পরিমাণ মদের চালান ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য হওয়া আসাম্ভব। ধৃত ছাত্রের বিরুদ্ধে আবগারি আইনের ৬০/৬৩ ধারায় মামলা দায়ের করে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
বিশ্লেষণ: কেন এই নতুন কৌশল
সাধারণত সাধারণ বা স্লিপার কোচে তল্লাশি বেশি হয় বলে পাচারকারীরা এখন দামি এসি কোচকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। শিক্ষিত তরুণদের এই অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঘটনা ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব বা দ্রুত অর্থ উপার্জনের নেশাকেই ইঙ্গিত করে।
একঝলকে
- স্থান: ইটাওয়া জংশন, উত্তরপ্রদেশ।
- ট্রেন: সিকিম মহানন্দা এক্সপ্রেস (দিল্লি থেকে বেগুসরাই)।
- উদ্ধারকৃত সামগ্রী: ৪৮ বোতল বিদেশি মদ।
- অভিযুক্ত: গৌরব কুমার, পলিটেকনিকের ছাত্র।
- কৌশল: নজর এড়াতে ট্রেনের এসি ফার্স্ট ক্লাস (H1) কোচে যাত্রা।