রাশিয়া থেকে তেল আমদানিতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, ভারতের জন্য বড় বিপদ!

রাশিয়া ও ইরান থেকে তেল আমদানিতে মার্কিন কড়াকড়ি: চাপে ভারতীয় জ্বালানি বাজার
আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি ও জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে রাশিয়া ও ইরান থেকে তেল আমদানিতে প্রদত্ত ‘নিষেধাজ্ঞা মওকুফ’ বা বিশেষ ছাড়ের মেয়াদ আর না বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসান্তের এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল আমদানিকারক দেশ ভারতের ওপর বড় ধরনের অর্থনৈতিক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে, দীর্ঘমেয়াদী সরবরাহ নিশ্চিত করতে রাশিয়ার সাথে ভারতের থাকা ৩ কোটি ব্যারেলের বিশাল চুক্তির ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে।
সময়সীমা ও বিকল্পের সংকট
যুক্তরাষ্ট্রের অনমনীয় অবস্থানের কারণে গত ১১ এপ্রিল রাশিয়ান তেল আমদানির বিশেষ ছাড়ের মেয়াদ শেষ হয়েছে এবং আগামী ১৯ এপ্রিল ইরানের ক্ষেত্রেও একই পরিণতি ঘটতে যাচ্ছে। এই কড়াকড়ির ফলে রিলায়েন্সের মতো ভারতের প্রধান শোধনাগারগুলো ইতোমধ্যেই রুশ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান রসনেফট ও লুকোয়েলের কাছ থেকে তেল কেনা কমিয়ে দিয়েছে। মার্কিন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের মুখে হোয়াইট হাউস এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে, যার ফলে ভারতকে এখন বাধ্য হয়েই বিশ্ববাজারে বিকল্প উৎস খুঁজতে হচ্ছে।
অর্থনৈতিক প্রভাব ও মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি
এই সিদ্ধান্তের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হলে জ্বালানি তেলের দাম উর্ধ্বমুখী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কম দামে তেল কেনার সুযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বৃদ্ধির প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। জ্বালানি তেলের বাড়তি দর শেষ পর্যন্ত দেশের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতিকে ত্বরান্বিত করবে, যা ভারতীয় অর্থনীতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এক ঝলকে
- রাশিয়া ও ইরান থেকে তেল আমদানিতে বিশেষ ছাড়ের মেয়াদ বাড়াচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র।
- ১১ এপ্রিল রাশিয়ার ও ১৯ এপ্রিল ইরানের জন্য নির্ধারিত বিশেষ ছাড়ের সময়সীমা শেষ হচ্ছে।
- আমদানির উৎস পরিবর্তন ও সরবরাহ সংকটের কারণে ভারতের বাজারে জ্বালানির দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
- মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপে ট্রাম্প প্রশাসন এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণে বাধ্য হয়েছে।