নারী সংরক্ষণ ও জাতি গণনার দ্বৈরথে উত্তাল লোকসভা, অখিলেশ-অমিত শাহের বাগযুদ্ধে তুঙ্গে রাজনীতি!

নারী সংরক্ষণ ও জাতি গণনার দ্বৈরথে উত্তাল লোকসভা, অখিলেশ-অমিত শাহের বাগযুদ্ধে তুঙ্গে রাজনীতি!

নারী সংরক্ষণ বিল ঘিরে লোকসভায় উত্তাল সংসদ: কেন্দ্র-বিরোধী সংঘাত চরমে

লোকসভার বিশেষ অধিবেশনে নারী সংরক্ষণ বিল উত্থাপনকে কেন্দ্র করে সরকার ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক মতভেদ প্রকাশ্যে এল। সমাজবাদী পার্টির (এসপি) প্রধান অখিলেশ যাদব এই বিলের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরকারের বিরুদ্ধে ‘জনগণকে প্রতারণার’ অভিযোগ এনেছেন। তাঁর প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে জাতিভিত্তিক জনগণনা সম্পন্ন করা এবং তা বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকা পুনর্বিন্যাস (ডিলিমিটেশন) স্থগিত রাখা। অখিলেশ যাদবের অভিযোগ, সরকার তড়িঘড়ি করে বিলটি পাস করানোর মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া নারীদের যথাযথ প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চাইছে।

সরকারি অবস্থান ও অমিত শাহের কড়া জবাব

বিরোধীদের আক্রমণের জবাবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি জানান, দেশজুড়ে আদমশুমারি প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে এবং সরকার জাতিভিত্তিক তথ্য সংগ্রহের বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে, ধর্মের ভিত্তিতে সংরক্ষণের যে দাবি সমাজবাদী পার্টির পক্ষ থেকে উঠেছে, শাহ তাকে সরাসরি ‘অসাংবিধানিক’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন। সরকারের লক্ষ্য হলো ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেই ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ পূর্ণাঙ্গরূপে কার্যকর করা। এই উদ্দেশ্যে আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল বিল পাসের প্রক্রিয়া দ্রুত করতে বিশেষ সংসদীয় বিধি শিথিলের প্রস্তাব দিয়েছেন।

সংসদের এই বিশেষ অধিবেশনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৯ সালের নির্বাচনকে পাখির চোখ করেই সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছে। সমাজবাদী পার্টির সংশয় এবং বিরোধী শিবিরের চাপ সত্ত্বেও বিলটি পাস করিয়ে নেওয়ার প্রশ্নে কেন্দ্র যে আপসহীন, তা আজকের অধিবেশন থেকেই স্পষ্ট। এই বিলের প্রয়োগ এবং জাতিভিত্তিক জনগণনা নিয়ে বিতর্ক আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতির বড় ইস্যু হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।

এক ঝলকে

  • নারী সংরক্ষণ বিলের স্বচ্ছতা ও সঠিক বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে সরকারকে ‘প্রতারণা’র দায়ে অভিযুক্ত করেছেন অখিলেশ যাদব।
  • কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সাফ কথা, সংবিধান অনুযায়ী ধর্মের ভিত্তিতে কোনো সংরক্ষণ দেওয়া সম্ভব নয়।
  • সরকার ২০২৯ সালের নির্বাচনের আগেই বিলটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য স্থির করেছে এবং দ্রুত প্রক্রিয়ার জন‍্য বিধি শিথিলের প্রস্তাব দিয়েছে।
  • আদশুমারি ও জাতিভিত্তিক তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া নিয়ে কেন্দ্র ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ জারি রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *