ড্রাগ ও অস্ত্রের ছড়াছড়ি! আলিপুরদুয়ার থেকে কড়া সতর্কবার্তা দিলেন মমতা

ভোটমুখী বাংলায় অস্ত্র ও মাদকের অনুপ্রবেশ নিয়ে সরব মমতা, নিশানা বিজেপিকে
আলিপুরদুয়ারের নির্বাচনী সভা থেকে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বহিরাগতদের মদতে অস্ত্র-মাদক পাচারের অভিযোগ তুলে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে বিহার সহ বিভিন্ন ভিনরাজ্য থেকে রাজ্যে অপরাধমূলক সামগ্রী ঢোকানো হচ্ছে। ভোটের প্রাক্কালে জনতাকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি প্রশাসনকে প্রভাবিত করে তৃণমূল কর্মীদের ধরপাকড়ের নীলনকশা তৈরি করছে।
বিজেপি ও কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র আক্রমণ
নির্বাচনী প্রচারে কেন্দ্র ও বিজেপিকে তুলোধনা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “কূটকচালি বা ছলনা করলে আমাদেরও বিছুটিপাতা আছে, তা দিয়ে মোকাবিলা করা হবে।” একইসঙ্গে কমিশনকে বিঁধে তিনি ‘বার্নল’ সংক্রান্ত মন্তব্য নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। রাজ্যের জনসংখ্যা পরিবর্তনের লক্ষ্যে এনআরসি চালুর প্রচেষ্টার বিরুদ্ধেও তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তাঁর মতে, অন্যের অপকর্মের দায়ভার তৃণমূলের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে বিজেপি, যা কখনোই বরদাস্ত করা হবে না।
ঘটনার কারণ ও প্রভাব
ভোটের মুখে রাজ্যে আগ্নেয়াস্ত্র ও মাদকের অবৈধ কারবার বেড়ে যাওয়াকে লোকসভা নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করার একটি সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছে তৃণমূল নেতৃত্ব। প্রশাসনের নজরদারি সত্ত্বেও এই অনুপ্রবেশ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তা মূলত ভোটারদের সচেতন করা এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার একটি কৌশল হিসেবেই বিশ্লেষকরা দেখছেন।
এক ঝলকে
- ভিনরাজ্য থেকে অস্ত্র ও মাদক পাচারের অভিযোগ তুলে জনতাকে সতর্ক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
- বিজেপি ও কমিশনকে নিশানা করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনেছেন তিনি।
- জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) ইস্যু সামনে এনে রাজনৈতিক সুর আরও চড়িয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
- ভোটের আগে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের তৎপরতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।