রাস্তায় কুকুরদের খাবার খাওয়ালে পড়তে পারেন আইনি বিপাকে!

ভারতে পথকুকুরদের খাবার খাওয়ানো কোনো অপরাধ নয় বরং এটি নাগরিক অধিকারের পর্যায়ে পড়ে। তবে ২০২৫ সালে সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক এক নির্দেশনায় এই নিয়মে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। এখন থেকে যেখানে সেখানে কুকুরকে খাবার দেওয়া আইনত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। মূলত জননিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতার কথা মাথায় রেখে সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে যে, খাবার দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট এলাকা ও নিয়ম মেনে চলা বাধ্যতামূলক।
নির্ধারিত স্থানেই দিতে হবে খাবার
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, এখন থেকে রাস্তা, পার্ক বা অ্যাপার্টমেন্টের প্রবেশদ্বারের মতো যত্রতত্র কুকুরদের খাবার দেওয়া যাবে না। স্থানীয় পৌরসভা বা প্রশাসন কর্তৃক নির্ধারিত ‘ফিডিং জোন’ বা নির্দিষ্ট এলাকাতেই কেবল খাবার দেওয়া যাবে। আবাসিক এলাকায় বিশৃঙ্খলভাবে খাবার দেওয়ার ফলে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, অন্যদিকে কুকুরের কামড় বা আক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে বলে সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে অভিযোগ আসছিল। এই ভারসাম্য বজায় রাখতেই আইন কঠোর করা হয়েছে।
আবাসন সোসাইটির নিয়ম ও পরিচ্ছন্নতা
হাউজিং সোসাইটি বা রেসিডেন্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনগুলো (RWA) কুকুরদের খাবার খাওয়ানো পুরোপুরি নিষিদ্ধ করতে না পারলেও নির্দিষ্ট কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে। যেমন, শিশুদের খেলার জায়গা বা সাধারণ চলাচলের পথে খাবার দেওয়া যাবে না। পাশাপাশি, খাবার দেওয়ার পর সেই স্থান পরিষ্কার রাখার দায়িত্বও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ওপর বর্তাবে। নিয়ম অমান্য করলে স্থানীয় আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এমনকি কুকুরের কামড়ের ঘটনায় অনেক ক্ষেত্রে খাবার প্রদানকারীকে দায়ী করার বিষয়েও সতর্কবার্তা দিয়েছে আদালত।
এক ঝলকে
- ভারতে পথকুকুরদের খাবার খাওয়ানো বৈধ অধিকার হলেও যত্রতত্র খাবার দেওয়া এখন থেকে নিষিদ্ধ।
- কেবল পৌরসভা বা স্থানীয় প্রশাসন নির্ধারিত ‘ফিডিং স্পট’-এই কুকুরদের খাবার পরিবেশন করা যাবে।
- আবাসিক এলাকায় পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থে সুপ্রিম কোর্ট এই কড়া নির্দেশনা দিয়েছে।
- নিয়ম না মেনে খাবার খাওয়ালে বা পরিবেশ নোংরা করলে আইনি জটিলতা ও জরিমানার মুখে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।