ভারতবাসীর জন্য স্বস্তির খবর: খুলে গেল হরমুজ প্রণালী, বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে বড় ধস

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘকালীন উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে খুলে দেওয়া হলো বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সমুদ্রপথ ‘হর্মুজ প্রণালী’। ইরান সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তায় তৈরি হওয়া গভীর অনিশ্চয়তা দূর হয়েছে। প্রায় ৫০ দিন বন্ধ থাকার পর এই জলপথ উন্মুক্ত হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক ধাক্কায় অনেকটা কমেছে, যা ভারতীয় অর্থনীতির জন্য বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কূটনৈতিক সাফল্য ও তেলের বাজারে প্রভাব
ভারতের মোট তেল আমদানির প্রায় ৫০ শতাংশ এই পথ দিয়েই আসে। হর্মুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় গত মার্চে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যাল প্রতি ১১৯ ডলারে পৌঁছে গিয়েছিল, যা বর্তমানে কমে ৯০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকারের সক্রিয় কূটনৈতিক মধ্যস্থতায় আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা এবং আটকা পড়া ১৫টি ভারতীয় বাণিজ্যিক জাহাজের মুক্তি নিশ্চিত হওয়াকে বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও টোল বিতর্ক
পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও ভারত সরকার জ্বালানি সরবরাহে কোনো ঝুঁকি নিতে নারাজ। এ লক্ষ্যে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর ও পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সাথে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখতে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এই পথে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর ওপর ইরান ‘টোল ফি’ দাবি করলেও ভারত এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। আপাতত এই সংকট মোকাবিলা করে ভারত তার অভ্যন্তরীণ বাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার সুযোগ পাবে।
এক ঝলকে
- প্রায় ৫০ দিন পর খুলে দেওয়া হলো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হর্মুজ প্রণালী।
- বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলে ১১৯ ডলার থেকে কমে ৯০ ডলারের নিচে নেমেছে।
- আটকা পড়া ১৫টি ভারতীয় বাণিজ্যিক জাহাজ নিরাপদে স্বদেশে ফেরার অনুমতি পেয়েছে।
- ভারতের সক্রিয় কূটনৈতিক হস্তক্ষেপে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সমঝোতা সম্ভব হয়েছে।