অনলাইন প্রতারকদের দিন শেষ, এখন স্ক্যামারদের জালে ধরা দেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা!

বর্তমান সময়ে অনলাইন জালিয়াতি বা স্ক্যামিংয়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে নিঃস্ব করার ঘটনা নিত্যনৈমিত্তিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এখন আর শুধু পড়াশোনা বা অফিসের কাজ নয়, চ্যাটজিপিটি (ChatGPT) ব্যবহার করে খুব সহজেই চেনা যাবে প্রতারণামূলক ইমেইল বা মেসেজ। ওপেনএআই-এর এই এআই চ্যাটবটটি এখন ব্যবহারকারীদের সাইবার অপরাধীদের কবল থেকে সুরক্ষায় এক শক্তিশালী ঢাল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
যেভাবে কাজ করে এই প্রযুক্তি
স্ক্যামাররা সাধারণত মেসেজে এক বিশেষ ধরনের প্যাটার্ন বা ভাষা ব্যবহার করে। চ্যাটজিপিটি সেই নির্দিষ্ট ভাষাগত ত্রুটি, ব্যাকরণগত ভুল এবং সন্দেহজনক কাঠামোগুলো তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করতে সক্ষম। বিশেষ করে ‘এখনই ক্লিক না করলে অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাবে’ জাতীয় হুমকি প্রদানকারী মেসেজ কিংবা ওটিপি ও ব্যাংক পিন চাওয়া মেইলগুলোর আসল উদ্দেশ্য চ্যাটজিপিটির বিশ্লেষণী ক্ষমতায় সহজেই ধরা পড়ে। কোনো নির্দিষ্ট লিঙ্কে ক্লিক না করেই সন্দেহজনক লেখাটি কপি করে চ্যাটজিপিটির কাছে বিশ্লেষণ চাইলে সেটি নিমিষেই সম্ভাব্য ফিশিং অ্যাটাক সম্পর্কে ব্যবহারকারীকে সতর্ক করে দেয়।
সচেতনতা ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বাড়বে এবং আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসবে। তবে চ্যাটজিপিটি কোনো ডেডিকেটেড অ্যান্টি-ভাইরাস বা সাইবার সিকিউরিটি টুল নয়, এটি মূলত পাঠ্য বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে তথ্য প্রদান করে। তাই ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার না করে শুধুমাত্র বার্তার ধরন যাচাই করার মাধ্যমেই প্রতারকদের হাত থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব।
এক ঝলকে
- সন্দেহজনক মেসেজ বা ইমেইল কপি করে চ্যাটজিপিটিতে পেস্ট করার মাধ্যমে ফিশিং স্ক্যাম শনাক্ত করা সম্ভব।
- এআই সিস্টেমটি স্ক্যামারদের ব্যবহৃত বিশেষ প্যাটার্ন, হুমকি এবং ব্যাকরণগত ভুলগুলো নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করে।
- নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মেসেজ পেস্ট করার আগে নিজের নাম, মোবাইল নম্বর বা পাসওয়ার্ড মুছে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
- সাইবার অপরাধের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি কমাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই ব্যবহার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।