বিয়ের প্রলোভনে হোটেলে বন্দি করে খুনের ছক, পরিচয় গোপন করে ভয়ংকর প্রতারণা!

পরিবার ও স্বামীর সঙ্গে বিবাদের জেরে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এক মহিলার সরলতার সুযোগ নিয়ে প্রেমের ফাঁদ পাতে অভিযুক্ত। নিজেকে ‘রাহুল’ পরিচয় দিয়ে ওই মহিলার বিশ্বাস অর্জন করে সে। এরপর বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে একটি ওয়াইও (OYO) হোটেলে নিয়ে গিয়ে দীর্ঘ ১৫ দিন আটকে রাখা হয়। সেখানে ওই মহিলার ওপর অকথ্য শারীরিক ও যৌন নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরিচয় বিভ্রাট ও পরিকল্পিত নিষ্ঠুরতা
তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্তের প্রকৃত নাম রাহুল নয়, বরং আদিল খান। নিজের ধর্মীয় পরিচয় গোপন করে সে ওই মহিলার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেছিল। হোটেলে বন্দি থাকাকালীন মহিলার ওপর ক্রমাগত অত্যাচার চালানোর পাশাপাশি তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে আদিল। প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে দেহটি একটি সুটকেসে ভরে পাচার করার নীল নকশাও তৈরি করেছিল ওই পাষণ্ড।
মৃত্যুফাঁদ থেকে রোমহর্ষক পলায়ন
টানা ১৫ দিন নরক যন্ত্রণা ভোগ করার পর, অভিযুক্তের অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে কোনোক্রমে প্রাণ বাঁচিয়ে হোটেল থেকে পালিয়ে আসতে সক্ষম হন ওই মহিলা। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার বয়ানের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। এই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও জনমানসে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে, যেখানে বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে কীভাবে এক নারীকে মৃত্যুর দোরগোড়ায় ঠেলে দেওয়া হয়েছিল তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
পুলিশ এই ঘটনায় মামলা দায়ের করেছে এবং বর্তমানে পলাতক অভিযুক্ত আদিল খানকে গ্রেপ্তারের জন্য বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। পরিচয় গোপন করে প্রতারণা এবং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের চেষ্টার এই ঘটনাটি ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও অপরিচিতদের ওপর অতি-বিশ্বাসের ঝুঁকি নিয়ে পুনরায় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
এক ঝলকে
- নিজেক ‘রাহুল’ পরিচয় দিয়ে আদিল খান এক মহিলার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে।
- বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে হোটেলে নিয়ে গিয়ে ১৫ দিন আটকে রেখে যৌন নির্যাতন ও মারধর করা হয়।
- মহিলাকে খুন করে দেহ সুটকেসে ভরে গুম করার পরিকল্পনা করেছিল অভিযুক্ত।
- সুযোগ বুঝে পালিয়ে বেঁচেছেন নির্যাতিতা, বর্তমানে পলাতক আদিলের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।