ভোররাতেই কলকাতায় ইডির ‘অ্যাকশন’, মমতার ঘনিষ্ঠ ডিসিপি শান্তনু সিনহার বাড়িতে ম্যারাথন তল্লাশি!

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে কলকাতায় কেন্দ্রীয় এজেন্সির তৎপরতা তুঙ্গে। রবিবার সকালে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হানা দিয়েছে। বিশেষ করে বালিগঞ্জ এলাকায় কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বাসভবনে এই তল্লাশি অভিযান প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। উল্লেখ্য, শান্তনু সিনহাকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
কয়লা পাচার ও এনআরআই কোটা দুর্নীতির যোগ
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, মূলত অর্থপাচার প্রতিরোধ আইন বা পিএমএলএ (PMLA) ধারায় এই অভিযান চালানো হচ্ছে। কয়লা কেলেঙ্কারি এবং মেডিকেল এনআরআই কোটা ভর্তি সংক্রান্ত দুর্নীতির তদন্তে এর আগে গত ৬ এপ্রিল শান্তনু সিনহাকে তলব করেছিল ইডি। শান্তনু সিনহা সেই সমনের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হলেও শেষ পর্যন্ত সরাসরি তাঁর বাসভবনে তল্লাশি শুরু করলেন আধিকারিকরা। গোলপার্কে তাঁর আবাসন ছাড়াও পার্শ্ববর্তী একটি সরকারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রেও তল্লাশি চালানো হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রভাব ও সম্ভাব্য পরিণতি
তদন্তের জালে শুধুমাত্র পুলিশ কর্তাই নন, বরং বেহালার ‘সান এন্টারপ্রাইজ’-এর এমডি জয় কামদারের বাড়িতেও হানা দিয়েছে ইডি। সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূল বিধায়ক দেবাশীষ কুমার এবং মুখ্যমন্ত্রীর প্রস্তাবক মিরাজ শাহর বাড়িতে আয়কর হানার পর ইডির এই পদক্ষেপ রাজ্যে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস এই অভিযানকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ভিত্তিহীন বলে দাবি করে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে। নির্বাচনের আগে এই ধরণের হাই-প্রোফাইল তল্লাশি জনমতের ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এক ঝলকে
- রবিবার সকালে কলকাতার বালিগঞ্জ ও বেহালাসহ একাধিক স্থানে ইডির সাঁড়াশি অভিযান।
- কয়লা পাচার ও মেডিকেল ভর্তি দুর্নীতির অভিযোগে ডিসিপি শান্তনু সিনহার বাড়িতে তল্লাশি।
- মমতার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই পুলিশ কর্তাকে এর আগে পিএমএলএ ধারায় তলব করা হয়েছিল।
- বেহালার ব্যবসায়ী জয় কামদারের বাসভবনেও তল্লাশি চালাচ্ছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা।