আবারও কি মধ্যপ্রাচ্যে বারুদের গন্ধ? দ্বিতীয় দফার আলোচনার আগেই জল্পনা উসকে দিল ইরান

ইসলামাবাদে গত ১১ এপ্রিল ইরান ও আমেরিকার মধ্যে অনুষ্ঠিত দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। আগামী সোমবার দ্বিতীয় দফার আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে গুঞ্জন থাকলেও, তা কার্যত নাকচ করে দিয়েছে তেহরান। ইরানের সংসদের স্পিকার মহম্মদ বাঘের গালিবফের সাম্প্রতিক বিবৃতিতে স্পষ্ট যে, দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার পথ এখনও বেশ কণ্টকাকীর্ণ। অনেক অমীমাংসিত বিষয় এবং মতপার্থক্যের কারণে পরবর্তী শান্তি আলোচনার বিষয়টি ঝুলে রয়েছে।
অমীমাংসিত সংকট ও তেহরানের অবস্থান
শনিবার এক বিবৃতিতে স্পিকার গালিবফ জানিয়েছেন, আলোচনায় এখনো অনেক ফাঁকফোকর রয়ে গিয়েছে এবং কোনো কিছুই চূড়ান্ত হয়নি। ইরান অভিযোগ করেছে যে, ওয়াশিংটন তাদের ওপর নিজস্ব শর্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে, যা তেহরান কোনোভাবেই মেনে নেবে না। আমেরিকার দাবি মেনে নিয়ে সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে রাজি হলেও, ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তারা তাদের মৌলিক অধিকার থেকে এক বিন্দুও সরবে না। এই অনমনীয় অবস্থানই আলোচনার টেবিলে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যুদ্ধের আশঙ্কা ও সম্ভাব্য প্রভাব
আগামী বুধবার এই সাময়িক সংঘর্ষবিরতির মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। তার আগে কোনো চূড়ান্ত রফাসূত্র না মিললে মধ্যপ্রাচ্যে পুনরায় পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হওয়ার প্রবল আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দ্বিতীয় দফার বৈঠক নিয়ে এই অনিশ্চয়তা আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে বড়সড় ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। ফলে বিশ্ববাসীর নজর এখন বুধবারের সময়সীমার ওপর, যা নির্ধারণ করবে এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ।
এক ঝলকে
- ইরান ও আমেরিকার মধ্যে প্রথম দফার ২১ ঘণ্টার শান্তি বৈঠক কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হয়েছে।
- পরবর্তী বৈঠক নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করে তেহরান জানিয়েছে, এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
- আগামী বুধবার সংঘর্ষবিরতির মেয়াদ শেষ হলে মধ্যপ্রাচ্যে পুনরায় যুদ্ধ শুরুর সম্ভাবনা রয়েছে।
- ইরানের দাবি, আমেরিকা তাদের ওপর শর্ত চাপানোর চেষ্টা করছে এবং আলোচনার ক্ষেত্রে বহু অমীমাংসিত বিষয় রয়ে গিয়েছে।