প্রসাদ না নেওয়া, দেবতাকে প্রণাম না করার জেরে ছেলের ওপর বাবার সন্দেহ! জুতোর মালা পরিয়ে গ্রামছাড়া করলেন নিজের বাবা

উত্তরপ্রদেশের হাথরাস জেলায় ধর্মীয় গোঁড়ামির এক চরম বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। নিজের বড় ছেলে এবং পুত্রবধূ খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছেন, শুধুমাত্র এই সন্দেহের বশবর্তী হয়ে তাঁদের প্রকাশ্যে চরম লাঞ্ছনা ও সামাজিকভাবে বয়কট করার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ৬৫ বছর বয়সী শিবরাজ সিং নামের ওই ব্যক্তি সোমবার গ্রাম পঞ্চায়েত ডেকে নিজের ছেলে বলরাম ও তাঁর স্ত্রীকে জুতোর মালা পরিয়ে পুরো গ্রামে ঘোরান। এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
সন্দেহ ও সামাজিক নিগ্রহের প্রেক্ষাপট
ভুক্তভোগী বলরাম সিং সপরিবারে আগ্রায় বসবাস করতেন এবং সেখানে মেলায় নাগরদোলার কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। সম্প্রতি তিনি নিজ গ্রাম ‘গরাউ গড়ি’তে ফিরে এলে পারিবারিক বিবাদের সূত্রপাত হয়। বাবার অভিযোগ, ছেলে এখন আর মন্দিরে মাথা নত করেন না এবং পুজোর প্রসাদ গ্রহণ করতেও অস্বীকার করছেন। এই আচরণ থেকেই শিবরাজ সিং নিশ্চিত হন যে তাঁর ছেলে ধর্ম পরিবর্তন করেছেন। সোমবার এই নিয়ে বাকবিতণ্ডা চরম পর্যায়ে পৌঁছালে ছোট ভাই তারাচাঁদও তাঁর দাদার ওপর চড়াও হন।
পুলিশি ব্যবস্থা ও সামাজিক প্রভাব
ঘটনার খবর পেয়ে তড়িঘড়ি ব্যবস্থা নিয়েছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। সার্কেল অফিসার যোগেন্দ্র কৃষ্ণ নারায়ণ জানিয়েছেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও নির্যাতনের অভিযোগে বাবা শিবরাজ সিং এবং ছোট ছেলে তারাচাঁদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনায় উসকানি দেওয়া পঞ্চায়েতের অন্যান্য সদস্যদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনা গ্রামীণ সমাজে অসহিষ্ণুতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের এক ভয়াবহ চিত্র ফুটিয়ে তোলে, যা সামাজিক সম্প্রীতির জন্য বড় হুমকি।
এক ঝলকে
- উত্তরপ্রদেশের হাথরাসে ধর্ম পরিবর্তনের সন্দেহে বড় ছেলেকে জুতোর মালা পরিয়ে লাঞ্ছিত করলেন বাবা।
- প্রসাদ না খাওয়া ও মন্দিরে প্রণাম না করাকে কেন্দ্র করে বিবাদের সূত্রপাত।
- অভিযুক্ত বাবা ও ছোট ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
- পঞ্চায়েত ডেকে প্রকাশ্য দিবালোকে এই মধ্যযুগীয় বর্বরতা চালানো হয়।