বিয়ের সাত মাসেই পৈশাচিকতা! দেড় কোটির যৌতুকের পরেও গৃহবধূর ওপর স্বামী ও শ্বশুরের চরম নৃশংসতা

উত্তরপ্রদেশের আগ্রার কমলা নগর এলাকায় পণের দাবিতে এক নববধূর ওপর লোমহর্ষক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, ২০২৪ সালের নভেম্বরে ঘটা করে হওয়া এই বিয়েতে প্রায় ১.৫০ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৪০ লাখ টাকা নগদ, গাড়ি ও বিপুল পরিমাণ সোনার গয়না থাকলেও বিয়ের পর থেকেই আরও ২ কোটি টাকার জন্য শুরু হয় শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার।
গোপন ক্যামেরা ও ব্ল্যাকমেইল
নির্যাতিতার অভিযোগ অনুযায়ী, স্বামী শোবার ঘরে অত্যন্ত সুকৌশলে গোপন ক্যামেরা লাগিয়ে রেখেছিলেন। সেই ক্যামেরায় ধারণ করা আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে নিয়মিত ব্ল্যাকমেইল করা হতো। এমনকি স্বামী তাকে বেধড়ক মারধর ও বিকৃত যৌনাচারের শিকার হতে বাধ্য করতেন বলে পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
শ্বশুরের লালসা ও জীবননাশের চেষ্টা
ঘটনা আরও চরম আকার ধারণ করে যখন স্বামী ওই গৃহবধূকে অন্য পুরুষের সাথে শারীরিক সম্পর্ক গড়ার কুপ্রস্তাব দেন। এই জঘন্য কাজের প্রতিবাদ করায় এবং শ্বশুর তাকে ধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ জানানোর পর, স্বামী তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন বলে জানা গেছে। কোনোক্রমে পিত্রালয়ে পালিয়ে গিয়ে তিনি প্রাণরক্ষা করেন। বর্তমানে এসিপি পীযূষ কান্ত রায়ের তত্ত্বাবধানে পুলিশ ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এক ঝলকে
- পণের দাবিতে বিয়ের মাত্র সাত মাসের মাথায় এক নববধূর ওপর পৈশাচিক নির্যাতনের অভিযোগ।
- স্বামী গোপন ক্যামেরায় অশ্লীল ভিডিও ধারণ করে স্ত্রীকে ব্ল্যাকমেইল ও অন্য পুরুষের সাথে সম্পর্কের চাপ দেন।
- শ্বশুরের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে খুনের চেষ্টার গুরুতর অভিযোগ।
- দেড় কোটি টাকা যৌতুক দেওয়ার পরেও অতিরিক্ত ২ কোটি টাকার দাবিতে এই সহিংসতা চালানো হয়েছে।