তৃণমূলের আর্জি খারিজ! অতি সংবেদনশীল বুথে থাকছে সিআরপিএফ-ই, বড় জয় কমিশনের

সব বুথে কি এবার আধা সেনাই ভরসা? স্পর্শকাতর এলাকায় সিআরপিএফ মোতায়েন নিয়ে কমিশনের সিদ্ধান্তই বহাল রাখল কলকাতা হাই কোর্ট। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের লক্ষ্যে কমিশনের নেওয়া এই পদক্ষেপকে আইনত বৈধ বলে মনে করছেন বিচারপতি। ফলে নির্বাচনের উত্তাপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সক্রিয়তা নিয়ে বিতর্কের আর কোনো সুযোগ থাকছে না।
আদালতের রায় ও আইনি অবস্থান
সিআরপিএফ মোতায়েনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দায়ের করা তৃণমূলের মামলাটি খারিজ করে দিয়েছে আদালত। বিচারপতি স্পষ্ট জানান, গোয়েন্দা তথ্য এবং মাঠ পর্যায়ের প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই কমিশন নির্দিষ্ট এলাকাগুলোকে ‘অতি সংবেদনশীল’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সংবিধানের ৩২৯(বি) ধারা অনুযায়ী, নির্বাচন চলাকালীন এই প্রক্রিয়ায় বিচারবিভাগীয় হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই বলেই পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।
নিরাপত্তার কড়াকড়ি বনাম রাজনৈতিক যুক্তি
তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছিল যে, বাহিনী মোতায়েনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ‘ম্যানুয়াল’ মানা হয়নি এবং এই সিদ্ধান্ত উদ্দেশ্যমূলক। তবে আদালতের মতে, নির্বাচন কমিশন নিজস্ব বিধি মেনেই জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সুপারদের তথ্যের ভিত্তিতে স্পর্শকাতর এলাকা ম্যাপিং করেছে। আইনশৃঙ্খলার ভারসাম্য বজায় রাখতেই কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের ব্যবহার যুক্তিযুক্ত বলে মনে করছে আদালত।
ভোটের দিনগুলোতে সাধারণ মানুষের ভয়মুক্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই এই সিদ্ধান্তের প্রধান লক্ষ্য। সংবেদনশীল বুথগুলোতে কড়া নিরাপত্তা থাকলে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে এবং এতে ভোটের সামগ্রিক স্বচ্ছতা বজায় থাকবে।
এক ঝলকে
- অতি সংবেদনশীল বুথে সিআরপিএফ মোতায়েন নিয়ে কমিশনের সিদ্ধান্তকে বৈধ ঘোষণা করল কলকাতা হাই কোর্ট।
- তৃণমূলের দায়ের করা মামলা খারিজ করে দিয়ে আদালতের পর্যবেক্ষণ, এতে বেআইনি কিছু নেই।
- গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই স্পর্শকাতর এলাকাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
- সংবিধানের ৩২৯(বি) ধারা অনুযায়ী নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মাঝে আদালত হস্তক্ষেপে অস্বীকৃতি জানায়।