বেধড়ক মার, শরীরে ৪০টি ক্ষত! গুরুকুলকাণ্ডে গ্রেপ্তার পরিচালক ও তাঁর সহযোগী

বেধড়ক মার, শরীরে ৪০টি ক্ষত! গুরুকুলকাণ্ডে গ্রেপ্তার পরিচালক ও তাঁর সহযোগী

উত্তরপ্রদেশের রাজধানী লখনউয়ের ‘রামানুজ ভাগবত বেদ বিদ্যাপীঠ গুরুকুল’ এক ভয়ঙ্কর ঘটনার সাক্ষী হয়েছে। মাত্র এক সপ্তাহ আগে বৈদিক শিক্ষা নিতে ভর্তি হওয়া দিব্যাংশ দ্বিবেদী ওরফে দিপু নামের ১১ বছর বয়সী এক ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে খোদ প্রতিষ্ঠানের संचालকের বিরুদ্ধে। শিশুটির শরীরে আঘাতের প্রায় ৪০টি গভীর ক্ষত পাওয়া গেছে, যা থেকে স্পষ্ট যে তাকে অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।

নির্মম নির্যাতন ও প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা

পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, গত ১৫ এপ্রিল শিশুটিকে ওই আবাসিক গুরুকুলে ভর্তি করা হয়েছিল। অভিযোগ উঠেছে, প্রধান অভিযুক্ত সৌরভ মিশ্র ওই ছাত্রকে একটি বদ্ধ ও বাতাসহীন ঘরে আটকে রেখে গত কয়েকদিন ধরে নিয়মিত মারধর করতেন। প্রচণ্ড গরম ও শারীরিক নির্যাতনের ফলে শিশুটির মৃত্যু হলে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালায় কর্তৃপক্ষ। পরিবারকে জানানো হয়েছিল শিশুটি সিঁড়ি থেকে পড়ে গেছে, কিন্তু সত্য আড়াল করতে মৃতদেহটি গাড়িতে করে নিহতের গ্রামের বাড়ির সামনে ফেলে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা।

পুলিশি পদক্ষেপ ও উত্তেজনা

কানপুর ও লখনউ পুলিশের তৎপরতায় মূল অভিযুক্ত সৌরভ মিশ্র এবং তার সহযোগী হর্ষিতা সোনিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা এবং তথ্য-প্রমাণ লোপাটের মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই নৃশংস ঘটনার জেরে নিহতের এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা মারধর ও অসহনীয় পরিবেশে আটকে রাখার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এক ঝলকে

  • লখনউয়ের আবাসিক গুরুকুলে ১১ বছরের ছাত্র দিব্যাংশ দ্বিবেদীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ।
  • নিহত ছাত্রের শরীরে প্রায় ৪০টি আঘাতের চিহ্ন এবং অমানুষিক নির্যাতনের প্রমাণ মিলেছে।
  • মৃতদেহটি পরিবারের অজান্তে তাদের বাড়ির সামনে ফেলে দিয়ে পালিয়েছিল অভিযুক্তরা।
  • পুলিশ ঘটনায় জড়িত প্রধান শিক্ষক ও তার সহযোগীকে গ্রেফতার করে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *