মাঝসমুদ্রে ৩৮৪ কোটির মাদক উদ্ধার: ৬ পাকিস্তানি পাচারকারীকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দিল আদালত!

মাঝসমুদ্রে ৩৮৪ কোটির মাদক উদ্ধার: ৬ পাকিস্তানি পাচারকারীকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দিল আদালত!

গুজরাটের কচ্ছ উপকূল দিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদক পাচারের চেষ্টায় অভিযুক্ত ছয় পাকিস্তানি নাগরিককে কঠোর সাজা শুনিয়েছে ভুজ আদালত। বিশেষ এনডিপিএস (NDPS) আদালতের বিচারক অভিযুক্তদের প্রত্যেককে ২০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২ লক্ষ টাকা করে জরিমানার নির্দেশ দিয়েছেন। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে ভারতীয় জলসীমায় প্রায় ৩৮৪.৬৮ কোটি টাকা মূল্যের ৭৭ কেজি হেরাডিনসহ তাদের হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছিল উপকূলরক্ষী বাহিনী ও গুজরাট এটিএস।

জাতীয় নিরাপত্তা ও আদালতের পর্যবেক্ষণ মামলার রায় প্রদানের সময় আদালত অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে। সরকারি কৌঁসুলির মাধ্যমে আদালত জানায়, মাদক পাচারের মতো অপরাধকে সাধারণ অপরাধ হিসেবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। এটি একটি সুপরিকল্পিত চক্রান্ত যা দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং যুবসমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়। বিচার প্রক্রিয়ায় ১৩ জন সাক্ষী এবং ২০৩টি নথিপত্র পর্যালোচনার পর এই ঐতিহাসিক রায় দেওয়া হয়।

অভিযান ও নেপথ্যের ঘটনা

২০২১ সালের ২০ ডিসেম্বর ভোরে জখৌ উপকূল থেকে প্রায় ৩৫ নটিক্যাল মাইল দূরে ‘আল হুসেইনি’ নামক একটি পাকিস্তানি নৌকাকে সন্দেহভাজন অবস্থায় শনাক্ত করা হয়। ভারতীয় কোস্ট গার্ড ও এটিএসের যৌথ অভিযানে নৌকাটি তল্লাশি করে পাঁচটি বস্তায় লুকানো প্রায় ৭৬.৯৩৬ কেজি হেরাডিন উদ্ধার করা হয়। করাচির বাসিন্দা এই ছয় পাচারকারী তখন থেকেই জেল হেফাজতে ছিল। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে প্রমাণিত হয়েছে যে, তারা আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের অংশ হিসেবে ভারতের জলসীমা ব্যবহার করে এই বিশাল চালানটি পাচারের চেষ্টা করছিল।

এক ঝলকে

  • ৩8৪ কোটি টাকার মাদক পাচার মামলায় ৬ জন পাকিস্তানি নাগরিকের ২০ বছরের জেল।
  • ২০২১ সালের ডিসেম্বরে কচ্ছ উপকূলের কাছে ‘আল হুসেইনি’ নৌকা থেকে ৭৭ কেজি হেরাডিন উদ্ধার হয়।
  • আদালত মাদক পাচারকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
  • সাজাপ্রাপ্ত ছয় ব্যক্তির প্রত্যেকের ওপর ২ লক্ষ টাকা করে জরিমানা আরোপ করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *