ছেলের খুনিদের ফাঁসি নয়, যাবজ্জীবন চান চন্দ্রনাথের মা: প্রতিহিংসার অভিযোগে সরব পরিবার

মধ্যমগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর শোকে পাথর হয়ে গিয়েছেন তাঁর মা হাসিরানি রথ। তবে ছেলের খুনিদের জন্য চরম দণ্ড হিসেবে ফাঁসি নয়, বরং আমৃত্যু কারাদণ্ড অর্থাৎ যাবজ্জীবনের দাবি তুলেছেন তিনি। তাঁর মতে, খুনিরা বেঁচে থেকে অনুতপ্ত হোক এবং নিজেদের অপরাধের গুরুত্ব উপলব্ধি করুক।
প্রতিহিংসার অভিযোগ ও পরিবারের নিরাপত্তাহীনতা
হাসিরানি দেবীর অভিযোগের তির সরাসরি তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের দিকে। তাঁর দাবি, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল এবং বিজেপি ক্ষমতায় আসার প্রতিহিংসা থেকেই তাঁর ছেলেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে শুভেন্দু অধিকারীর জয়ের পর থেকেই তাঁদের পরিবার এক প্রকার বিপন্ন অবস্থায় ছিল। তাঁর অভিযোগ, শাসকদলের শীর্ষ স্তরের উস্কানিমূলক বার্তার কারণেই দুষ্কৃতীরা সাহস পেয়েছে এবং তাঁর নিরপরাধ ছেলেকে প্রাণ দিতে হল।
বিপন্ন শৈশব ও শোকাতুর পরিবার
একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে হাসিরানি দেবী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তিনি বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, চন্দ্রনাথ কেবল একজন রাজনৈতিক কর্মীর ছায়াসঙ্গী ছিলেন না, তিনি ছিলেন পরিবারের একমাত্র মেরুদণ্ড। বিজেপি নেতৃত্বের কাছে তাঁর সকরুণ আরজি, দোষীরা যেন কোনোভাবেই আড়াল না পায় এবং আইনের মাধ্যমে তাঁদের যেন কঠোরতম সাজা নিশ্চিত করা হয়।
রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের প্রাক্কালে এই শোকাতুর মায়ের আর্তনাদ এখন রাজনৈতিক মহলের অন্যতম চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কীভাবে একটি সাধারণ পরিবারকে তছনছ করে দিতে পারে, চন্দ্রনাথের মৃত্যু যেন তারই এক জলজ্যান্ত উদাহরণ।
প্রতিবেদক— বর্তমান ঠাকুর।