“আপনি হারেননি দিদি!” মমতাকে উত্তরীয় পরিয়ে নতুন লড়াইয়ের বার্তা অখিলেশের

কলকাতা, ৭ মে ২০২৬: রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই বৃহস্পতিবার দুপুরে কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে উপস্থিত হলেন সমাজবাদী পার্টি প্রধান অখিলেশ যাদব। এদিন অখিলেশকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। গাড়ি থেকে নেমেই অভিষেককে উষ্ণ আলিঙ্গন করেন অখিলেশ এবং তাঁর কাজের প্রশংসা করেন। এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করে তাঁকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন তিনি। সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে অখিলেশকে বলতে শোনা যায়, “দিদি, আপনি হারেননি।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সেই মন্তব্যে সহমত পোষণ করে তাঁকে সাদর অভ্যর্থনা জানান।
আই-প্যাকের সঙ্গে বিচ্ছেদ ও অখিলেশের কৌশল
মমতার সঙ্গে এই সৌজন্য সাক্ষাতের আবহেই উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে চাঞ্চল্যকর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অখিলেশ যাদব। ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটকুশলী সংস্থা ‘আই-প্যাক’-এর সঙ্গে মাত্র তিন মাস আগে যে চুক্তি সমাজবাদী পার্টি করেছিল, বুধবার আচমকাই তা ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। ২০২৭ সালে যোগী আদিত্যনাথের বিজেপি সরকারকে চ্যালেঞ্জ জানাতে যখন সমাজবাদী পার্টি ঘুঁটি সাজাচ্ছে, তখন প্রচার কৌশলে এই বদল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
তহবিল সংকট নাকি নির্বাচনী সমীকরণ?
সংস্থাটির সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদের কারণ হিসেবে অখিলেশ যাদব মূলত আর্থিক সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, বর্তমানে পর্যাপ্ত তহবিল না থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুর সাম্প্রতিক নির্বাচনে আই-প্যাকের কৌশল প্রত্যাশিত সাফল্য না পাওয়ায় অখিলেশ হয়তো আগেভাগেই সতর্ক হয়েছেন। যদিও সমাজবাদী পার্টি প্রধান এই জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে দাবি করেছেন, অন্য রাজ্যের ভোটের ফলাফলের সঙ্গে তাঁদের এই সিদ্ধান্তের কোনও সম্পর্ক নেই।
প্রভাব ও বিশ্লেষণ
জাতীয় রাজনীতিতে মমতা ও অখিলেশের এই ঘনিষ্ঠতা এবং একইসঙ্গে পেশাদার প্রচার কৌশলে অখিলেশের এই বদল ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আঞ্চলিক দলগুলি এখন নিজেদের নিজস্ব সাংগঠনিক শক্তির ওপর বেশি ভরসা করতে চাইছে। নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে বহিরাগত সংস্থার কৌশলের চেয়ে রাজনৈতিক সংহতি এবং ব্যক্তিগত জনসংযোগকেই সমাজবাদী পার্টি ও তৃণমূলের মতো দলগুলি বর্তমানে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। অখিলেশের এই সফর বিরোধীদের জোটবদ্ধ থাকার বার্তাকেও শক্তিশালী করল।