“বিজেপিতে মুখ্যমন্ত্রীরা স্রেফ ‘কুরিয়ার-মেসেঞ্জার’, ওপর থেকে আসে চিরকুট!”— যোগী সরকারকে তীব্র কটাক্ষ অখিলেশের

উত্তরপ্রদেশের সাম্প্রতিক মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণকে কেন্দ্র করে যোগী আদিত্যনাথ সরকার ও বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব। তাঁর মতে, বর্তমান বিজেপি শাসনে মুখ্যমন্ত্রীর নিজস্ব কোনো ক্ষমতা নেই; বরং তিনি স্রেফ ওপর থেকে আসা নির্দেশ পালনকারী এক ‘কুরিয়ার মেসেঞ্জার’ হিসেবে কাজ করছেন।
দিল্লি থেকে আসা চিঠিতেই নির্ধারিত হচ্ছে মন্ত্রিসভার ভাগ্য
সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ করা একটি পোস্টে অখিলেশ যাদব দাবি করেন, মন্ত্রিসভায় কাকে নেওয়া হবে বা কাকে বাদ দেওয়া হবে, সেই সিদ্ধান্তে লখনউয়ের কোনো হাত নেই। তিনি বিদ্রুপ করে বলেন, “দিল্লি থেকে চিরকুট আসবে আর এখানে তা পাঠ করা হবে। মন্ত্রিসভা গঠনে মুখ্যমন্ত্রীর কোনো ভূমিকা নেই বললেই চলে।” অখিলেশের এই মন্তব্য মূলত বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণের দিকেই ইঙ্গিত করছে, যেখানে রাজ্য পর্যায়ের রদবদলও দিল্লি থেকে নিয়ন্ত্রিত হয় বলে তাঁর অভিযোগ।
ব্যক্তিগত স্বার্থ বনাম জনসেবার লড়াই
কেবল রাজনৈতিক আক্রমণ নয়, অখিলেশ যাদবের বার্তায় উঠে এসেছে নৈতিকতার প্রসঙ্গও। তিনি মানুষের লোভ ও লালসাকেই সব মন্দের মূল হিসেবে চিহ্নিত করে বলেন যে, মানুষ যখন স্বার্থ ত্যাগ করে পরমার্থের পথে হাঁটে, তখনই প্রকৃত পরিবর্তন সম্ভব। তিনি বর্তমান শাসকদের সিনেমা দেখার প্রসঙ্গের অবতারণা করে কটাক্ষ করেন যে, সিনেমার ‘কর্মফল’ থেকে শিক্ষা নিয়ে যদি তাদের কোনো বোধোদয় হয়, তবেই রাজ্যের মঙ্গল।
রাজনৈতিক প্রভাব ও সম্ভাব্য প্রেক্ষাপট
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অখিলেশের এই ঝাঁজালো মন্তব্য আসন্ন নির্বাচনের আগে সমাজবাদী পার্টির রণকৌশলেরই অংশ। মন্ত্রিসভার এই সম্প্রসারণকে ‘আইওয়াশ’ বা লোকদেখানো পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরে তিনি সাধারণ ভোটারদের মধ্যে এই বার্তা দিতে চাইছেন যে, উত্তরপ্রদেশ সরকার আসলে স্বায়ত্তশাসিত নয়। এর ফলে বিজেপির অভ্যন্তরে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ নিয়ে যেমন বিতর্ক দানা বাঁধতে পারে, তেমনি বিরোধী শিবিরের সংহতি আরও মজবুত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অখিলেশের এই ‘কুরিয়ার মেসেঞ্জার’ তত্ত্বটি রাজ্য রাজনীতিতে নতুন তর্কের জন্ম দিয়েছে।