ভুয়ো নম্বর প্লেট থেকে গ্লক পিস্তল: টোল প্লাজার এক UPI পেমেন্টেই ফাঁস শুভেন্দুর ঘনিষ্ঠ নেতার খুনের রহস্য!

বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে এবার চাঞ্চল্যকর মোড়। মাত্র একটি ডিজিটাল লেনদেনের সূত্র ধরে ঘাতকদের শনাক্ত করার পথে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে তদন্তকারী দল। গত ৬ মে রাতে মধ্যমগ্রামের দোহরিয়া লেন এলাকায় অতর্কিত হামলা চালিয়ে চন্দ্রনাথকে গুলি করে খুন করা হয়। তদন্তে নেমে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, খুনিরা হাওড়ার বালি টোল প্লাজায় একটি ইউপিআই (UPI) ট্রানজ্যাকশন করেছিল, যা এখন এই মামলার সবথেকে বড় ক্লু হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ডিজিটাল সূত্র ও টোল প্লাজার ফুটেজ
পুলিশি সূত্রের খবর, খুনে ব্যবহৃত রুপালি রঙের গাড়িটি বালি টোল প্লাজা অতিক্রম করার সময় সেখানে ইউপিআই-এর মাধ্যমে টোল দেওয়া হয়েছিল। ওই ডিজিটাল লেনদেনের সূত্র ধরে একটি মোবাইল নম্বর উদ্ধার করেছেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজে গাড়ি ও গাড়ির ভেতরে থাকা সন্দেহভাজনদের স্পষ্ট ছবি ধরা পড়েছে। ঘাতকরা অত্যন্ত পেশাদার হওয়ায় তারা একাধিক ভুয়া নম্বর প্লেট এবং ইঞ্জিন নম্বর টেম্পার করা গাড়ি ব্যবহার করেছিল, কিন্তু একটি সামান্য ডিজিটাল পেমেন্টই তাদের ছক ওলটপালট করে দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
অত্যাধুনিক অস্ত্রের ব্যবহার ও আন্তর্জাতিক যোগ
তদন্তে আরও উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। চন্দ্রনাথকে খুনের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে অস্ট্রিয়া নির্মিত গ্লক ৪৭এক্স (Glock 47X) পিস্তল, যা সচরাচর সাধারণ অপরাধীদের হাতে দেখা যায় না। এই ধরনের অত্যাধুনিক অস্ত্রের ব্যবহার দেখে গোয়েন্দাদের অনুমান, এর পেছনে কোনও আন্তর্জাতিক চক্র বা আন্তঃসীমান্ত অপরাধী গোষ্ঠী জড়িত থাকতে পারে। সিআইডি এবং এসটিএফ নিয়ে গঠিত সিট (SIT) বর্তমানে বাংলাদেশ এবং উত্তরপ্রদেশের পেশাদার শ্যুটারদের যোগসূত্র খতিয়ে দেখছে।
হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ ও প্রভাব
প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, এই হত্যাকাণ্ড নিছক কোনও ব্যক্তিগত শত্রুতা নয়, বরং এর পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে। গুঞ্জন উঠেছে যে, নিহত চন্দ্রনাথ রথের কাছে কয়লা ও গোরু পাচার চক্র সংক্রান্ত বেশ কিছু সংবেদনশীল নথি ছিল। সেই নথিপত্র কবজা করতেই কি এই নিখুঁত ছক কষা হয়েছিল, তা নিয়ে জোর চর্চা চলছে। পেশাদার কায়দায় সিসিটিভি বিহীন এলাকা বেছে নিয়ে যেভাবে হামলা চালানো হয়েছে, তা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক পরিবেশের ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই ঘটনায় এখনও কাউকে গ্রেফতার করা না গেলেও তদন্তকারী দল দ্রুত বড় কোনো সাফল্যের আশা করছে।