নবান্নে শুভেন্দু-যুগ শুরু! শমীকের বাড়ি থেকে মহাকরণ, দিনভর হাইভোল্টেজ কর্মসূচিতে সরগরম রাজ্য

রাজ্যে নতুন সরকারের যাত্রা শুরু হলো এক ব্যস্ততম কর্মসূচির মধ্য দিয়ে। শপথ গ্রহণের রেশ কাটতে না কাটতেই সোমবার সকাল থেকে প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক কাজে ঝাঁপিয়ে পড়লেন নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। চিনার পার্কের বাসভবন থেকে বের হয়ে তিনি প্রথমেই পৌঁছান রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের বাড়িতে। সেখান থেকে দুই নেতার একসঙ্গে দলীয় কার্যালয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে দিনভর এক ঠাসা সূচির সূচনা হয়।
দলীয় সংবর্ধনা ও সাংগঠনিক রূপরেখা
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার সল্টলেকের রাজ্য বিজেপি দপ্তরে পৌঁছলে শুভেন্দু অধিকারীকে রাজকীয় সংবর্ধনা জানানো হয়। ২০৭টি পদ্মের মালা এবং ঐতিহ্যবাহী বরণডালার মাধ্যমে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান দলীয় কর্মীরা। প্রশাসনের দায়িত্ব নেওয়ার আগে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে একপ্রস্থ সাংগঠনিক বৈঠক সারেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের শুরুর দিনেই দল ও প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখতেই এই প্রাথমিক আলোচনা।
নবান্নে প্রশাসনিক তৎপরতা ও ক্যাবিনেট বৈঠক
দলীয় কর্মসূচি শেষে বেলা ১১টা নাগাদ মুখ্যমন্ত্রী পৌঁছান রাজ্য সচিবালয় নবান্নে। সেখানে তাঁকে গার্ড অফ অনার প্রদান করা হয়। নতুন সরকারের প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকের পাশাপাশি দিনভর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সভার নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। প্রথম পর্যায়ে সচিবদের সঙ্গে এবং পরবর্তী ধাপে জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী। বিকেলের দিকে রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনারসহ উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার কথা রয়েছে তাঁর।
নিরাপত্তার কড়াকড়ি ও আগামীর লক্ষ্য
মুখ্যমন্ত্রীর প্রথম নবান্ন সফরকে কেন্দ্র করে রবিবার থেকেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল। কলকাতা ও হাওড়া পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকরা নবান্ন চত্বর সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। মূলত ‘সোনার বাংলা’ গড়ার প্রতিশ্রুতি পূরণে প্রশাসনের সর্বস্তরে গতিশীলতা আনা এবং আমলাতন্ত্রের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনই এই ম্যারাথন বৈঠকের মূল লক্ষ্য। নতুন মুখ্যমন্ত্রীর এই তৎপরতা রাজ্য প্রশাসনের কর্মসংস্কৃতিতে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।