দৈনিক ১৭০০ কোটির লোকসান! চরম বিপাকে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি, আমজনতার কপালে চিন্তার ভাঁজ

দৈনিক ১৭০০ কোটির লোকসান! চরম বিপাকে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি, আমজনতার কপালে চিন্তার ভাঁজ

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ রুট ‘হরমুজ প্রণালী’ কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভারতসহ একাধিক দেশ তীব্র জ্বালানি সঙ্কটের মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম স্থিতিশীল রাখা হলেও বিশাল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব তেল সংস্থাগুলি।

সংকটে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব তেল সংস্থা ও ক্রমবর্ধমান লোকসান

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়া সত্ত্বেও দেশীয় বাজারে গত দশ সপ্তাহ ধরে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ফলে ইন্ডিয়ান অয়েল, ভারত পেট্রোলিয়াম এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়ামের মতো রাষ্ট্রায়ত্ত্ব সংস্থাগুলি প্রতিদিন প্রায় ১,৬০০ থেকে ১,৭০০ কোটি টাকার লোকসান বা ‘আন্ডার-রিকভারি’র শিকার হচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক সপ্তাহে এই সামগ্রিক ক্ষতির পরিমাণ ইতিমধ্যে ১ লক্ষ কোটি টাকার গণ্ডি ছাড়িয়েছে। ভারত তার চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এবং ৯০ শতাংশ এলপিজি আমদানি করে, যার একটি বড় অংশ এই সংঘাতের কারণে সরাসরি প্রভাবিত হয়েছে।

সরকারি পদক্ষেপ ও দাম বৃদ্ধির সম্ভাবনা

জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে কেন্দ্র সরকার দেশীয় এলপিজি উৎপাদন দৈনিক ৩৬ হাজার টন থেকে বাড়িয়ে ৫৪ হাজার টন করেছে। এছাড়া পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর আবগারি শুল্ক কমিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। তবে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়তে থাকায় এই পরিস্থিতি কতদিন বজায় থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পাকিস্তান বা ব্রিটেনের মতো দেশে জ্বালানির দাম বহুগুণ বাড়লেও ভারতে এখনও বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, তেল কো ম্পা নিগুলোর আর্থিক কাঠামো ভেঙে পড়া রুখতে আগামী ১৫ মে-র মধ্যেই জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে বড় কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে সরকার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *