লুক আউট নোটিস ও দীর্ঘ টানাপোড়েনের অবসান, অবশেষে ইডির দপ্তরে ডিসিপি শান্তনু

টানা পাঁচবার হাজিরা এড়িয়ে অবশেষে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) মুখোমুখি হলেন কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) শান্তনু সিনহা বিশ্বাস। দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার নজরে থাকা এই উচ্চপদস্থ পুলিশকর্তা বৃহস্পতিবার সকালে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দেন। লুক আউট নোটিস জারি হওয়ার পর তাঁর এই হাজিরাকে রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
তদন্তে অসহযোগিতা ও কেন্দ্রীয় সংস্থার তৎপরতা
বালি পাচার এবং আর্থিক তছরূপ সংক্রান্ত মামলায় নাম জড়ানোর পর থেকেই শান্তনু সিনহাকে একাধিকবার তলব করেছিল ইডি। এর আগে পাঁচবার নোটিস পাঠানো হলেও প্রতিবারই নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে হাজিরা এড়িয়েছেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে জলঘোলা শুরু হলে ইডি সরাসরি ডিরেক্টর অফ সিকিউরিটিকে চিঠি পাঠিয়ে তাঁর অবস্থান জানতে চায়। এমনকি তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে পারেন, এমন আশঙ্কায় বিমানবন্দর ও রেল স্টেশনগুলোতে তাঁর বিরুদ্ধে লুক আউট নোটিস জারি করা হয়। এর আগে তাঁর বাসভবন এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিও উদ্ধার করেছিলেন তদন্তকারীরা।
মামলার প্রেক্ষাপট ও সম্ভাব্য প্রভাব
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, বালি পাচারের পাশাপাশি তোলাবাজি এবং জমি দখলের মতো গুরুতর অভিযোগে শান্তনু সিনহার ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর আগে তাঁর দুই পুত্রকেও তলব করা হয়েছিল, তবে তাঁরা হাজিরা দেননি। দীর্ঘ সময় ধরে কালীঘাট থানার দায়িত্বে থাকায় এবং প্রশাসনের শীর্ষ মহলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত হওয়ার কারণে এই পুলিশকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা তদন্তের গতির জন্য অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছে ইডি। আজকের এই জিজ্ঞাসাবাদের ফলে বালি পাচার চক্রের মূল পাণ্ডা এবং আর্থিক লেনদেনের নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম সামনে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই ঘটনাপ্রবাহ রাজ্য পুলিশের ভাবমূর্তির ওপর বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।