শেষ মুহূর্তে বদল! স্পিকার পদে তাপস রায়কে সরিয়ে কাকে বেছে নিল শুভেন্দু অধিকারী?

শেষ মুহূর্তে বদল! স্পিকার পদে তাপস রায়কে সরিয়ে কাকে বেছে নিল শুভেন্দু অধিকারী?

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকার নির্বাচন নিয়ে দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটল। মানিকতলার জয়ী বিধায়ক তাপস রায়ের নাম নিয়ে জোর চর্চা থাকলেও, শেষ পর্যন্ত কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রের বিধায়ক রথীন্দ্র বসুকেই এই গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য বেছে নিল বিজেপি। বৃহস্পতিবার সকালে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন।

নাটকীয় মোড় ও রথীন্দ্র বসুর মনোনয়ন

বিধানসভার প্রোটেম স্পিকার হিসেবে শপথ নেওয়ার পর বুধবার নবনির্বাচিত বিধায়কদের শপথবাক্য পাঠ করিয়েছিলেন তাপস রায়। রাজনৈতিক মহলে ধারণা তৈরি হয়েছিল যে, অভিজ্ঞতার নিরিখে তিনিই স্থায়ী স্পিকার হতে চলেছেন। তবে বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান, ১৮তম বিধানসভার স্পিকার পদের জন্য রথীন্দ্র বসুকেই মনোনীত করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছেন যে, রথীন্দ্র বসু সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচিত হবেন। শুক্রবারই তাঁর আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে।

নতুন স্পিকারের প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

দায়িত্ব পাওয়ার পর রথীন্দ্র বসু জানান, দল তাঁকে যে দায়িত্ব দিয়েছে তা তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করবেন। বিধানসভা পরিচালনার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ সদস্যদের পরামর্শ নেওয়ার পাশাপাশি জনমতকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, তাপস রায়কে কেন শেষ মুহূর্তে এই দৌড় থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে। গুঞ্জন রয়েছে, তাঁকে মন্ত্রিসভার কোনো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দেখা যেতে পারে।

রাজনৈতিক প্রভাব

রথীন্দ্র বসুর মতো উত্তরবঙ্গের একজন বিধায়ককে স্পিকার পদে বসানোর সিদ্ধান্তটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে উত্তরবঙ্গের মানুষের প্রতি দলের গুরুত্ব প্রদানের বার্তা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিরোধী পক্ষ থেকে আসা স্পিকারের পক্ষপাতিত্বের যে অভিযোগ বিজেপি করে আসছিল, নতুন স্পিকারের অধীনে বিধানসভার নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয় এবং নতুন সরকারের এই প্রশাসনিক রদবদল রাজ্যের সংসদীয় রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *