আমেরিকার অন্দরেই চিনের গুপ্তচর, ক্যালিফোর্নিয়ার প্রাক্তন মেয়রের স্বীকারোক্তিতে তোলপাড় ওয়াশিংটন!

আমেরিকার মাটিতে বসে বেজিংয়ের হয়ে দালালি ও গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে শেষ পর্যন্ত দোষ স্বীকার করে নিলেন ক্যালিফোর্নিয়ার আর্কেডিয়া শহরের প্রাক্তন মেয়র আইলিন ওয়াং। সোমবার মার্কিন আদালতে হাজির হয়ে ৫৮ বছর বয়সি এই চিনাবংশোদ্ভূত নেত্রী নিজের বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ মেনে নিয়েছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন বেজিংয়ের প্রভাব রুখতে মরিয়া, ঠিক সেই সময়ে খোদ মার্কিন প্রশাসনের অন্দরে চিনা এজেন্টের উপস্থিতির এই ঘটনা হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
মেয়র থেকে চিনা এজেন্ট হওয়ার নেপথ্যে
তদন্তকারী সংস্থা এফবিআইয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত আইলিন ওয়াং চিনের কমিউনিস্ট সরকারের নির্দেশে আমেরিকায় চিনপন্থী পরিবেশ তৈরির কাজ চালিয়েছিলেন। চিনা মেসেজিং অ্যাপ ‘উইচ্যাট’-এর মাধ্যমে বেজিংয়ের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন তিনি। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমেরিকার স্বার্থবিরোধী এবং চিনের পক্ষে প্রচার চালানোর নির্দেশও তিনি সরাসরি পালন করতেন। ২০২২ সালে মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর তার এই কর্মকাণ্ড আরও বিস্তৃত হয়, যা আমেরিকার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি করেছিল।
শাস্তির মুখে ওয়াং ও প্রশাসনিক তৎপরতা
আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, বিদেশি এজেন্ট হিসেবে কাজ করার অপরাধে ওয়াংয়ের সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। এই ঘটনায় ইতিপূর্বেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে তার প্রাক্তন স্বামী ইউনিং মাইক সানকেও। লস অ্যাঞ্জেলেসের এফবিআই প্রধান এই ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি যখন বিদেশের চর হিসেবে কাজ করেন, তখন তা গণতন্ত্রের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। এফবিআই প্রধান কাশ প্যাটেল স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, দেশে ছড়িয়ে থাকা এ ধরনের গোপন এজেন্টদের খুঁজে বের করতে কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে। এই ঘটনায় প্রমাণিত যে, ভূ-রাজনৈতিক লড়াই কেবল সীমান্তে নয়, এখন মার্কিন প্রশাসনের অলিন্দেও পৌঁছে গেছে।