জ্বালানির ছ্যাঁকায় খালি হচ্ছে পকেট, অগ্নিমূল্য বাজারের আশঙ্কায় কাঁপছে আমজনতা!

বৃহস্পতিবারই রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (আরবিআই) গভর্নর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন পেট্রল ও ডিজেলের দাম বৃদ্ধির। সেই আশঙ্কা সত্যি করে মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দেশজুড়ে কার্যকর হয়েছে জ্বালানির নতুন দাম। লিটার প্রতি পেট্রল ও ডিজেলের দাম এক ধাক্কায় ৩ টাকা ৮ পয়সা বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজধানী দিল্লিতে পেট্রল প্রায় ৯৮ টাকা এবং ডিজেল ৯০ টাকার গণ্ডি ছাড়িয়েছে। ভোট মিটতেই কলকাতায় পেট্রলের দাম ১০৮ টাকা ছাড়িয়েছে এবং ডিজেলও সেঞ্চুরির দোরগোড়ায়। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের অস্থিরতা এবং হরমুজ প্রণালীর ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণেই মূলত বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারে। যদিও অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির তুলনায় ভারতের বাজারে দাম বৃদ্ধির এই হার আপাতত কিছুটা নিয়ন্ত্রিত।
পরিবহণ খরচ বৃদ্ধির চড়া মাশুল
এই মূল্যবৃদ্ধি সাময়িক স্বস্তিদায়ক মনে হলেও এর দূরগামী প্রভাব পড়তে চলেছে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে। ডিজেল হলো দেশের পণ্য পরিবহণ ব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি। ফলে ট্রাক ও দূরপাল্লার পরিবহণ খরচ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের বাজারে আগুন লাগার উপক্রম হয়েছে। কাঁচামাল এবং খাদ্যসামগ্রী এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে নিয়ে যাওয়ার খরচ বাড়ায় আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সবজি, ফল, দুধ, মাছ, মাংস, খাদ্যশস্য এবং ভোজ্য তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। কোল্ড স্টোরেজ বা হিমঘর পরিচালন ব্যবস্থার খরচ বাড়ার কারণে পচনশীল দ্রব্যের দাম আরও আকাশছোঁয়া হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
দৈনন্দিন জীবন ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা
জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি শুধু রান্নাঘরেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, এর আঁচ পড়ছে সাধারণ মানুষের যাতায়াত এবং প্রযুক্তিনির্ভর পরিষেবার ওপরেও। দিল্লিতে কেজিতে ২ টাকা সিএনজির দাম বাড়ায় অটো ও ট্যাক্সি সংগঠনগুলো ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। পাশাপাশি ই-কমার্স সংস্থা, খাবার ডেলিভারি অ্যাপ এবং অ্যাপভিত্তিক ক্যাবগুলোর ডেলিভারি চার্জ বা প্ল্যাটফর্ম ফি বৃদ্ধির সম্ভাবনা প্রবল। এমনকি বিমান জ্বালানির (এটিএফ) দাম বাড়ায় উৎসবের মরশুমে বিমান ভাড়াও সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে। অন্যদিকে, গ্রামীণ অর্থনীতিতে ট্র্যাক্টর, সেচের পাম্প এবং ফসল কাটার যন্ত্র চালাতে প্রচুর ডিজেল লাগে। চাষের খরচ এক লাফে অনেকটা বেড়ে যাওয়ায় প্রান্তিক চাষিরা যেমন সংকটে পড়বেন, তেমনই আগামী দিনে খাদ্য সংকটের চাপ তৈরি হবে খুচরো বাজারে।